০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করলে ইরানের পরিণতি ভয়াবহ হবে: যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেট: ০১:১১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • 107

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে হুমকি দিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত একজন মার্কিন প্রতিনিধি বলেছেন, এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলে, তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক ব্যুরোর সিনিয়র ব্যুরো কর্মকর্তা ম্যাককয় পিট গতকাল ১৩ জুন শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভায়এ কথা বলেন। খবর আল জাজিরার। মার্কিন প্রতিনিধি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ইসরায়েলি সরকার ওয়াশিংটনকে বলেছে যে, তাদের বোমাবর্ষণ ‘আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ম্যাককয় পিট আরো বলেন, “প্রতিটি সার্বভৌম জাতির আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং ইসরায়েলও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগে থেকেই হামলার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল, কিন্তু এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জড়িত ছিল না। আমাদের পরম, সর্বাধিক অগ্রাধিকার হলো এই অঞ্চলে মার্কিন নাগরিক, কর্মী এবং বাহিনীর সুরক্ষা। পিট বলেন, তেহরানের উচিত নয় এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা। এমনটি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে।” আজ শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু আলোচনা এখন ‘অর্থহীন’। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের হামলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এই হামলা ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া সম্ভব হতো না বলেও তিনি দাবি করেন। খবর আল জাজিরার। শুক্রবার ভোরে ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান। রবিবার ওমানের মাসকাটে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান জানিয়েছে, ‘পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত’ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না তারা। যদিও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার ভোরে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মধ্য ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরো ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলের ডেভিড অ্যাডম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, শনিবার ভোরে মধ্য ইসরায়েলের রিশন লেজিওনে আবাসিক ভবনে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। এতে দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শামির মেডিকেল সেন্টার ও উলফসন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে ইরানে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রের পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এতে ইসরায়েলের নয়টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রথম পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে একজন নিহত এবং আরো অন্তত ৪৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের প্রথম হামলায় ইরানে ৭৮ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেন থেকে এবার ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আজ শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনে থেকে ছোড়া তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ইসরায়েলে প্রবেশের আগেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। ইসরায়েলে কোনো সতর্ক সংকেত বাজেনি। এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে, ইরানে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পরপরই ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। হামলার পর ইসরায়েলের একাধিক স্থানে সতর্ক সংকেত বেজে উঠেছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েল। এদিকে, ইরানে ইসরায়েলির হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। তেহরানে হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং ইরানের ‘সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা’ লঙ্ঘনের জন্য কড়া ভাষায় ইসরায়েলের নিন্দা করেছেন। খবর আল জাজিরার। রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভিকে দেওয়া মন্তব্যে ফু বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় আমি খুব উদ্বিগ্ন। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ‘আরেকটি লাল রেখা অতিক্রিম করেছে। ফু আরো বলেন, বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তারের বিরোধিতা করে এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইসরায়েলের ওপর প্রতিশোধমূলক শুরু করেছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস-পরিচালিত ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তৃতীয় দফায় বিমান হামলা শুরু করার আগে শুক্রবার রাতে বৃষ্টির মতো ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান শুক্রবার রাতে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং বেশিরভাগই বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে অথবা ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সহায়তা করেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরান মোট ১৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মধ্য তেল আবিবের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি ভবন ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিবের শহরতলির রামাত গানে নয়টি ভবনও ধ্বংস হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জেরুজালেমেও একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের হামলা নাকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়। তেল আবিবের ইচিলভ হাসপাতাল ইরানের দ্বিতীয় দফায় হামলায় আহত সাতজনকে চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই সামান্য আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার পরিষেবা জানিয়েছে, শহরের একটি ভবনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে তারা আহত হন। ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তেল আবিব এলাকায় মোট ৩৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই সামান্য আহত। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলের ওপর ইরান তার প্রতিশোধমূলক হামলা এখনো অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা ইরানকে কঠোর জবাব দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে অন্তত ৭৮ জনকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। শুক্রবারের পর আজ শনিবারও ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক ঘণ্টা আগে জানায়, তেহরানে ‘একাধিক বিস্ফোরণের’ শব্দ শোনা গেছে, যার মধ্যে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস পরিচালিত ফার্স নিউজ এজেন্সি এখন নিশ্চিত করেছে যে, বিমানবন্দর এলাকায় কমপক্ষে দুটি বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানি সংবামাধ্যমগুলো বলছে, গত এক ঘণ্টায় তেহরানের আরো কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় শনিবার মধ্য রাত থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রের পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এতে ইসরায়েলের নয়টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা গেছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে একজন নিহত এবং আরো অন্তত ৪৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ৭৮ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যে ইরানের কয়েক ডজন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমানঘাঁটি ধ্বংস করেছে।

আগামীকাল ১৩ মে দৈনিক সূর্যোদয়ের ১৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করলে ইরানের পরিণতি ভয়াবহ হবে: যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট: ০১:১১:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানকে হুমকি দিয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত একজন মার্কিন প্রতিনিধি বলেছেন, এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হলে, তার পরিণতি ভয়াবহ হবে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিষয়ক ব্যুরোর সিনিয়র ব্যুরো কর্মকর্তা ম্যাককয় পিট গতকাল ১৩ জুন শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভায়এ কথা বলেন। খবর আল জাজিরার। মার্কিন প্রতিনিধি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে বলেন, ইসরায়েলি সরকার ওয়াশিংটনকে বলেছে যে, তাদের বোমাবর্ষণ ‘আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে ম্যাককয় পিট আরো বলেন, “প্রতিটি সার্বভৌম জাতির আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে এবং ইসরায়েলও এর ব্যতিক্রম নয়। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আগে থেকেই হামলার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল, কিন্তু এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে জড়িত ছিল না। আমাদের পরম, সর্বাধিক অগ্রাধিকার হলো এই অঞ্চলে মার্কিন নাগরিক, কর্মী এবং বাহিনীর সুরক্ষা। পিট বলেন, তেহরানের উচিত নয় এই অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করা। এমনটি হলে ইরানের জন্য পরিণতি ভয়াবহ হবে।” আজ শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু আলোচনা এখন ‘অর্থহীন’। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইসরায়েলের হামলাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এই হামলা ওয়াশিংটনের অনুমতি ছাড়া সম্ভব হতো না বলেও তিনি দাবি করেন। খবর আল জাজিরার। শুক্রবার ভোরে ইরানের সামরিক ও পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা স্থগিত করেছে তেহরান। রবিবার ওমানের মাসকাটে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান জানিয়েছে, ‘পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত’ আলোচনায় অংশ নিচ্ছে না তারা। যদিও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবারও আলোচনায় ফিরতে আহ্বান জানিয়েছে। শনিবার ভোরে ইরানের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি মধ্য ইসরায়েলে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় অন্তত দুজন নিহত এবং আরো ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলের ডেভিড অ্যাডম অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের বরাত দিয়ে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, শনিবার ভোরে মধ্য ইসরায়েলের রিশন লেজিওনে আবাসিক ভবনে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। এতে দুজন নিহত ও ২১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শামির মেডিকেল সেন্টার ও উলফসন মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার ভোরে ইরানে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রের পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। এতে ইসরায়েলের নয়টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ইরানের প্রথম পাল্টা হামলায় ইসরায়েলে একজন নিহত এবং আরো অন্তত ৪৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের প্রথম হামলায় ইরানে ৭৮ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন। ইয়েমেন থেকে এবার ইসরায়েলে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আজ শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইয়েমেনে থেকে ছোড়া তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলি বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ইসরায়েলে প্রবেশের আগেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। ইসরায়েলে কোনো সতর্ক সংকেত বাজেনি। এর আগে গতকাল শুক্রবার ভোরে, ইরানে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার পরপরই ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। হামলার পর ইসরায়েলের একাধিক স্থানে সতর্ক সংকেত বেজে উঠেছিল। ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করার দাবি করেছে ইসরায়েল। এদিকে, ইরানে ইসরায়েলির হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে। তেহরানে হামলার ঘটনায় এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সৌদি আরব, তুরস্ক, চীন, রাশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের দূত ফু কং ইরানের ‘সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ অখণ্ডতা’ লঙ্ঘনের জন্য কড়া ভাষায় ইসরায়েলের নিন্দা করেছেন। খবর আল জাজিরার। রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম সিসিটিভিকে দেওয়া মন্তব্যে ফু বলেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় আমি খুব উদ্বিগ্ন। এই হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ‘আরেকটি লাল রেখা অতিক্রিম করেছে। ফু আরো বলেন, বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তারের বিরোধিতা করে এবং ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পরিণতি সম্পর্কে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে ইসরায়েলের ওপর প্রতিশোধমূলক শুরু করেছে ইরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস-পরিচালিত ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তৃতীয় দফায় বিমান হামলা শুরু করার আগে শুক্রবার রাতে বৃষ্টির মতো ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। খবর আল জাজিরার। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান শুক্রবার রাতে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে এবং বেশিরভাগই বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে অথবা ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীও ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সহায়তা করেছে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্স সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ইরান মোট ১৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। মধ্য তেল আবিবের একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় একটি ভবন ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, তেল আবিবের শহরতলির রামাত গানে নয়টি ভবনও ধ্বংস হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জেরুজালেমেও একটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের হামলা নাকি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়। তেল আবিবের ইচিলভ হাসপাতাল ইরানের দ্বিতীয় দফায় হামলায় আহত সাতজনকে চিকিৎসা দিয়েছে, যাদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই সামান্য আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার পরিষেবা জানিয়েছে, শহরের একটি ভবনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করলে তারা আহত হন। ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তেল আবিব এলাকায় মোট ৩৪ জন আহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই সামান্য আহত। টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলের ওপর ইরান তার প্রতিশোধমূলক হামলা এখনো অব্যাহত রেখেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলছে, তারা ইরানকে কঠোর জবাব দিচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে অন্তত ৭৮ জনকে হত্যা করে ইসরায়েল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। শুক্রবারের পর আজ শনিবারও ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক ঘণ্টা আগে জানায়, তেহরানে ‘একাধিক বিস্ফোরণের’ শব্দ শোনা গেছে, যার মধ্যে মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও রয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস পরিচালিত ফার্স নিউজ এজেন্সি এখন নিশ্চিত করেছে যে, বিমানবন্দর এলাকায় কমপক্ষে দুটি বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ইরানি সংবামাধ্যমগুলো বলছে, গত এক ঘণ্টায় তেহরানের আরো কয়েকটি স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এদিকে, শুক্রবার ভোরে ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলার প্রতিক্রিয়ায় শনিবার মধ্য রাত থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্রের পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এতে ইসরায়েলের নয়টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানা গেছে। ইরানের হামলায় ইসরায়েলে একজন নিহত এবং আরো অন্তত ৪৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলের হামলায় ইরানে ৭৮ জন নিহত ও ৩২০ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইতিমধ্যে ইরানের কয়েক ডজন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিমানঘাঁটি ধ্বংস করেছে।