০৬:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

  • আপডেট: ০১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫
  • 134

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে এক বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মুরাদুর রহমান মুন্না (৩০)। তিনি উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বজনরা এমন অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুন্নার স্ত্রী রত্না ও বোন আমেনা খাতুন অভিযোগ করেন বলেন, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মুন্না তার ধানি জমি দেখতে সেজামুড়া সীমান্তের কাছে যান। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে রেখে চলে যায়। এসময় বিজিবি সদস্যরা টহলে গেলে তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। তাকে গুরুতর অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা এ ঘটনায় সরকারের কাছে বিচার দাবি করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের কাঁটাতার থেকে ১৫০ থেকে ৩০০ গজের ভেতরে বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়ায় মুরাদুলের পরিবারের ফসলি জমি রয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মুরাদুল সেখানেই বসবাস করতেন। মঙ্গলবার মুরাদুল নিজের লিচুগাছে পানি দেন। দুপুরে ভাত খেয়ে জমি দেখতে যান মুরাদুল। বিকেল ৫টার পরও তিনি বাড়িতে ফেরেননি। স্ত্রী রত্না আক্তার বাড়ি থেকে বের হয়ে সীমান্তে খোঁজাখুঁজি করেও স্বামীর সন্ধান পাননি। একজন ফোন করে তাকে জানিয়েছিলেন, মুরাদুলকে বিএসএফের সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে। সন্ধ্যার দিকে ফসলি জমিতে মুরাদুল পড়েছিলেন। তাকে উদ্ধার করে চম্পকনগর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আরাফাত বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতাল আনার পর আমরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করি। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এদিন বিজিবির টহল টিমের বরাত দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমতিয়াজ বলেন, আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি মুরাদ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তিনি কী কারণে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন, বিএসএফ তাকে ধরেছে কি না বা না অন্য কেউ মেরেছে তা এখনও জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। বিএসএফের সঙ্গে কথা বলে আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। কর্নেল ইমতিয়াজ সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান, মুরাদুল সীমান্তের কাঁটাতার অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতের সীমানায় প্রবেশ করেন এবং সুস্থভাবেই বাংলাদেশে ফেরত আসেন। সীমান্তের বিজিবির টহল দলের সদস্যরা তাকে দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। তবে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছেন বলে স্বীকার করেননি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আহত হয়েছিলেন কি না বা কোনো চোরাকারবারির সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে কি না জানা যায়নি।

আগামী সপ্তাহেই বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র

বিবাড়িয়া সীমান্তে বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেট: ০১:১৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ এপ্রিল ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে এক বাংলাদেশি যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মুরাদুর রহমান মুন্না (৩০)। তিনি উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বজনরা এমন অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) রাতে উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামুড়া সীমান্তের জিরো পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুন্নার স্ত্রী রত্না ও বোন আমেনা খাতুন অভিযোগ করেন বলেন, মঙ্গলবার বিকেলের দিকে মুন্না তার ধানি জমি দেখতে সেজামুড়া সীমান্তের কাছে যান। এ সময় বিএসএফের কয়েকজন তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে বাংলাদেশ সীমান্তে ফেলে রেখে চলে যায়। এসময় বিজিবি সদস্যরা টহলে গেলে তাকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়। তাকে গুরুতর অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনরা এ ঘটনায় সরকারের কাছে বিচার দাবি করেছেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের কাঁটাতার থেকে ১৫০ থেকে ৩০০ গজের ভেতরে বিজয়নগর উপজেলার সেজামুড়ায় মুরাদুলের পরিবারের ফসলি জমি রয়েছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মুরাদুল সেখানেই বসবাস করতেন। মঙ্গলবার মুরাদুল নিজের লিচুগাছে পানি দেন। দুপুরে ভাত খেয়ে জমি দেখতে যান মুরাদুল। বিকেল ৫টার পরও তিনি বাড়িতে ফেরেননি। স্ত্রী রত্না আক্তার বাড়ি থেকে বের হয়ে সীমান্তে খোঁজাখুঁজি করেও স্বামীর সন্ধান পাননি। একজন ফোন করে তাকে জানিয়েছিলেন, মুরাদুলকে বিএসএফের সদস্যরা ধরে নিয়ে গেছে। সন্ধ্যার দিকে ফসলি জমিতে মুরাদুল পড়েছিলেন। তাকে উদ্ধার করে চম্পকনগর এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান স্বজনরা। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক আরাফাত বলেন, অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতাল আনার পর আমরা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করি। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। এদিন বিজিবির টহল টিমের বরাত দিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমতিয়াজ বলেন, আমরা যতটুকু খবর পেয়েছি মুরাদ অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তিনি কী কারণে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন, বিএসএফ তাকে ধরেছে কি না বা না অন্য কেউ মেরেছে তা এখনও জানা যায়নি। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। বিএসএফের সঙ্গে কথা বলে আরও বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। কর্নেল ইমতিয়াজ সংবাদমাধ্যমকে আরও জানান, মুরাদুল সীমান্তের কাঁটাতার অতিক্রম করে অবৈধভাবে ভারতের সীমানায় প্রবেশ করেন এবং সুস্থভাবেই বাংলাদেশে ফেরত আসেন। সীমান্তের বিজিবির টহল দলের সদস্যরা তাকে দেখতে পান। জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন বলে স্বীকার করেন। তবে ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছেন বলে স্বীকার করেননি। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তিনি আহত হয়েছিলেন কি না বা কোনো চোরাকারবারির সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে কি না জানা যায়নি।