হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে সাম্য-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে আবার এলো খুশির ঈদ। আজ ৩১ মার্চ সোমবার মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় দুটো ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা এবং ফিতরা ও জাকাত আদায়ের পর এই দিনটি ধর্মীয় আবহে আনন্দঘন পরিবেশে পালন করে থাকে ইসলাম ধর্মের অনুসারীবৃন্দ। ঈদুল ফিতর উদযাপনের শুরু ইসলামের সূচনালগ্নেই হয়। হিজরতের দ্বিতীয় বর্ষে প্রথমবারের মতো মুসলমানরা এই উৎসব পালন করেন। ঈদুল ফিতর ইসলামিক বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়াল মাসের প্রথম দিনে উদযাপিত হয়। মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘এই দিনে সবাই একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করবে, একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাবে এবং দরিদ্রদের মাঝে সদকা প্রদান করবে। পবিত্র ঈদকে কেবল মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সর্বজনীনভাবে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের দেশ, যেখানে ধর্ম, জাতি ও ভাষার সমন্বয়ে একটি সর্বজনীন সামাজিক বন্ধন গড়ে উঠেছে। ঈদ মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয় বরং এটি সর্বজনীন উৎসব যা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মধ্যে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশে ঈদ উৎসব একটি মিলনমেলার মতো, যেখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ একত্রিত হয়; ফলে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রকাশ ঘটে। ঈদুল ফিতর এক মাস রোজার পর আসে, যা আত্মশুদ্ধি ও সংযমের প্রতীক। বাংলাদেশে ঈদ উৎসব শুধু মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সর্বজনীন উৎসব। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ এই উৎসবের আনন্দে অংশগ্রহণ করে। এ বিশেষ দিবসে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ ভুলে সবাই ঈদের নামাজ পড়তে একত্রিত হয় এবং প্রার্থনা শেষে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করে। ঈদের নামাজ শেষে কোলাকুলি, উপহার বিনিময় এবং একে অপরকে আমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যমে পরস্পরের ভুল বোঝাবুঝি নিরসন হয়, এবং ফলে সুসম্পর্ক ও সম্প্রীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে ঈদ উৎসব সমাজে সম্প্রীতি ও সংহতির বন্ধন দৃঢ় করে। ঈদের আমেজ কেবল মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বাংলাদেশে ঈদ উৎসবের সঙ্গে কিছু বিশেষ ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। সকালে ঈদের নামাজ পড়ার পর আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাওয়া, বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরি করা, শিশুদের নতুন পোশাক উপহার দেওয়া, সমাজের দরিদ্রদের সাহায্য করা—এসব ঐতিহ্য সুদীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জন্য এক মহিমান্বিত ও আনন্দের দিন। এটি কেবলমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি দাতব্য, আত্মশুদ্ধি, সামাজিক সংহতি তথা আনন্দের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। ঈদুল ফিতর আমাদের শিক্ষা দেয় কীভাবে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাধ্যমে মানবহিতকর ও উন্নত জীবন গঠন করা যায়, এবং একইসাথে, সমাজে ন্যায় ও সাম্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা যায়। ঈদের মহান শিক্ষা বাস্তবজীবনে প্রয়োগ করে দেশের মুসলমানরা প্রমাণ করতে পারেন ঈদ-আনন্দ সবার।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, দৈনিক সূর্যোদয়