০৪:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণকে গুলি করে হত্যা

  • আপডেট: ১২:১৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪
  • 159

সূর্যোদয় ডেস্ক: নিউইয়র্কে পুলিশের গুলিতে উইন রোজারিও (১৯) নামে বাংলাদেশি এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৭ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ওজোনপার্ক ১০৩ স্ট্রিট, ১০১ এভিনিউয়ের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ গোটা কম্যুনিটি। নিহত উইনের মা ইভা কোস্টা (৪৯) গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তার ছেলে পুলিশের দিকে কাঁচি হাতে ধাওয়া করেনি। পুলিশের বডি ক্যামেরা পরীক্ষা করলেই তা স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই বাসা থেকে উইন হটলাইনে (৯১১) কল করে দ্রুত পুলিশের সহায়তা চায়। দুই মিনিটের মধ্যেই টহল পুলিশ ওই বাসায় যায়। পুলিশের চিফ অব পেট্রল জন ছেল জানান, সেখানে পৌঁছানোর পর উইনের মানসিক সংকটের চরম অবনতি ঘটে। পুলিশ চেষ্টা করছিল তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে।

কিন্তু উইন হাতের কাছে একটি ড্রয়ার থেকে (সম্ভবত কিচেন রুমে) ধারালো কাঁচি বের করে পুলিশের দিকে ধেয়ে আসছিল। চিফ অব পেট্রল আরও উল্লেখ করেন, উইনকে শান্ত করতে ব্যর্থ হলে কর্তব্যরত দুই পুলিশ অফিসারই প্রথমে তাকে থামানোর প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আরও কয়েকটি কাঁচি হাতে নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। সে সময়ই পুলিশ তাকে গুলি করতে বাধ্য হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিকটস্থ জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, উইনের ছোট ভাই উৎস রোজারিও (১৭) তাদের জানিয়েছে, উইন মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। কদিন আগেও নাকি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। পুলিশ আরও দাবি করেছে, উইনকে ঠেকাতে পুলিশ অফিসারদ্বয় টেজার (আত্মরক্ষার প্রাথমিক অস্ত্র) প্রয়োগের চেষ্টা করলে তার মা সেটি প্রতিহত করেন। অবশ্য পুলিশের এ দাবি সত্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন উইনের মা ইভা কোস্টা।

তিনি জানান, উইন পুলিশের কাছে ধরা দিতে চায়নি। সে তাকে জড়িয়ে ধরে পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিল। ইভা কোস্টা বলেন, তার ছেলেকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়।

তিনি এর বিচার দাবি করেছেন। ইভা বলেন, উইন মার্কিন সেনাবাহিনীতে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন। ইন্টারভিউতে টিকে গেছেন। মানসিকভাবে সে সুস্থ না থাকলে ইন্টারভিউতে টিকে কীভাবে? উল্লেখ্য, উইনের বাবা ফ্রান্সিস রোজারিও (৫২) জেএফকে এয়ারপোর্টে কাজ করেন। এই দুর্ঘটনার সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

গাজীপুরের সন্তান ফ্রান্সিস সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন ২০১৪ সালে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই জেএফকে এয়ারপোর্টে চাকরি করেন। তারা পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তানের এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ অফিসারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর চাঁদপুর সফর, পথে পথে জনতার ঢল

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি তরুণকে গুলি করে হত্যা

আপডেট: ১২:১৪:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

সূর্যোদয় ডেস্ক: নিউইয়র্কে পুলিশের গুলিতে উইন রোজারিও (১৯) নামে বাংলাদেশি এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৭ মার্চ মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বেলা ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ওজোনপার্ক ১০৩ স্ট্রিট, ১০১ এভিনিউয়ের বাসায় এ ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ গোটা কম্যুনিটি। নিহত উইনের মা ইভা কোস্টা (৪৯) গণমাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, তার ছেলে পুলিশের দিকে কাঁচি হাতে ধাওয়া করেনি। পুলিশের বডি ক্যামেরা পরীক্ষা করলেই তা স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই বাসা থেকে উইন হটলাইনে (৯১১) কল করে দ্রুত পুলিশের সহায়তা চায়। দুই মিনিটের মধ্যেই টহল পুলিশ ওই বাসায় যায়। পুলিশের চিফ অব পেট্রল জন ছেল জানান, সেখানে পৌঁছানোর পর উইনের মানসিক সংকটের চরম অবনতি ঘটে। পুলিশ চেষ্টা করছিল তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে।

কিন্তু উইন হাতের কাছে একটি ড্রয়ার থেকে (সম্ভবত কিচেন রুমে) ধারালো কাঁচি বের করে পুলিশের দিকে ধেয়ে আসছিল। চিফ অব পেট্রল আরও উল্লেখ করেন, উইনকে শান্ত করতে ব্যর্থ হলে কর্তব্যরত দুই পুলিশ অফিসারই প্রথমে তাকে থামানোর প্রক্রিয়া অবলম্বন করেন। এতে সে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে আরও কয়েকটি কাঁচি হাতে নিয়ে পুলিশের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেন। সে সময়ই পুলিশ তাকে গুলি করতে বাধ্য হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে অ্যাম্বুলেন্সে নিকটস্থ জ্যামাইকা হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, উইনের ছোট ভাই উৎস রোজারিও (১৭) তাদের জানিয়েছে, উইন মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। কদিন আগেও নাকি চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। পুলিশ আরও দাবি করেছে, উইনকে ঠেকাতে পুলিশ অফিসারদ্বয় টেজার (আত্মরক্ষার প্রাথমিক অস্ত্র) প্রয়োগের চেষ্টা করলে তার মা সেটি প্রতিহত করেন। অবশ্য পুলিশের এ দাবি সত্য নয় বলে উল্লেখ করেছেন উইনের মা ইভা কোস্টা।

তিনি জানান, উইন পুলিশের কাছে ধরা দিতে চায়নি। সে তাকে জড়িয়ে ধরে পুলিশের হাত থেকে বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছিল। ইভা কোস্টা বলেন, তার ছেলেকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হয়।

তিনি এর বিচার দাবি করেছেন। ইভা বলেন, উইন মার্কিন সেনাবাহিনীতে ভর্তির অপেক্ষায় ছিলেন। ইন্টারভিউতে টিকে গেছেন। মানসিকভাবে সে সুস্থ না থাকলে ইন্টারভিউতে টিকে কীভাবে? উল্লেখ্য, উইনের বাবা ফ্রান্সিস রোজারিও (৫২) জেএফকে এয়ারপোর্টে কাজ করেন। এই দুর্ঘটনার সময় তিনি সেখানেই ছিলেন। সংবাদ পেয়ে দ্রুত বাসায় ফিরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

গাজীপুরের সন্তান ফ্রান্সিস সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন ২০১৪ সালে। স্বামী-স্ত্রী উভয়েই জেএফকে এয়ারপোর্টে চাকরি করেন। তারা পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তানের এমন মৃত্যুর জন্য দায়ী পুলিশ অফিসারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।