০২:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাহাজের দায়িত্ব নিয়েছে নতুন আরেকটি জলদস্যু দল

  • মিশু দাশ
  • আপডেট: ০৬:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪
  • 204

মিশু দাশ: বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ’র দায়িত্ব নিয়েছে সোমালিয়ান জলদস্যুদের অপর একটি দল। তাদের হাতে জাহাজটি বুঝিয়ে দিয়ে আগের দলটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। সোমালিয়ান সময় দুপুর ১টার দিকে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়। নতুন যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের সবার হাতে রয়েছে ভারী অস্ত্র।

আজ ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জিম্মি নাবিক।

তিনি জানান, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ এই মুহূর্তে সোমালিয়ার গারাকাড উপকূল থেকে ২০ মাইল দূরে নোঙ্গর করা আছে। নোঙ্গর করার পর ১৯ জনের একটি নতুন দল জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। অন্যদিকে জাহাজ হাইজ্যাকে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি জাহাজ ছেড়ে যায়। জিম্মি নাবিক বলেন, জলদস্যুদের প্রথম দলটি অনেকটা হালকা অস্ত্র বহন করছিল। এখন যারা দায়িত্ব নিয়েছে ওদের সবার হাতে ভারী অস্ত্র। তবে তারা নাবিকদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করেনি। বরং এক রুমের বন্দিদশা থেকে সবাইকে যার যার রুমে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত নাবিকরা সুস্থ আছেন, তাদের ওপর নির্যাতন করেনি সোমালিয়ার জলদস্যুরা। তবে ছিনতাই হওয়া জাহাজের পিছু নেওয়া নেভির জাহাজের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে জিম্মি নাবিকরা। নেভির জাহাজের কারণে নাবিকদের সমস্যা হবে বলে জানাচ্ছে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় নতুন জলদস্যুরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে এক বন্দি নাবিক তার পরিবারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাবিক পরিবারের সদস্য বলেন, দুপুর দুইটার দিকে তার (নাবিক) সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাদের জলদস্যুরা আরেকটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করেছে। ওই গ্রুপ জাহাজের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তিনি আরো বলেন, এখনও নেভির জাহাজটি ফলোআপে আছে। যার কারণে ওই জাহাজে থাকা জলদস্যুরা বলছে, নেভির জাহাজ থাকলে নাবিকরা সমস্যায় পড়তে পারে।

সবশেষে তিনি আমাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। যদিও এখন মুক্তিপণ বা অন্য কী উপায়ে নাবিকদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা যোগাযোগ করেনি এমভি আবদুল্লাহ’র মালিকপক্ষের সঙ্গে। জানায়নি তাদের দাবি-দাওয়া। তবে জাহাজসহ জিম্মি নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে জাহাজটির বিমাকারী যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে জাহাজের মালিকপক্ষ। এতে কতদিন সময় লাগতে পারে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তারা।

এর আগে গত ১২ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। সে সময় সোমালিয়া উপকূল থেকে ৪৫০ ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল জাহাজটি। দস্যুদের কাছে জিম্মি ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে জাহাজটি জলদস্যুর কবলে পড়ে। এরপর বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাহাজটি ভারত মহাসাগর থেকে সোমালিয়া নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে দস্যুরা। ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করতে গতকাল ১৩ মার্চ বুধবার রাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিজস্ব নেভির একটি জাহাজ তাদের পিছু নিয়েছে বলে জানা গেছে। জলদস্যু ও ইইউর জাহাজে থাকা নৌসেনাদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে জিম্মি বাংলাদেশিদের হত্যার হুমকি দেয় জলদস্যুরা। এরপর কোনো উপায় না থাকায় পিছু হটে ইইউ নেভির জাহাজটি।

সোমালিয়ার স্থানীয় সময় ১৩ মার্চ বুধবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত ইইউ নেভির জাহাজটি তাদের অনুসরণ করে যাচ্ছে। কিন্তু জলদস্যুদের অনড় অবস্থানের কারণে জিম্মি থাকা ২৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০ নটিক্যাল মাইল দূর থেকে বাংলাদেশি পতাকাবাহী এমবি আব্দুল্লাহ’কে অনুসরণ করে যাচ্ছে ইইউর জাহাজটি। ইতোমধ্যে সোমালিয়া জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রিত জলসীমান্তে প্রবেশ করেছে কেএসআরএমের মালিকানাধীন বাংলাদেশি জাহাজটি।

কেএসআরএমের মুখপাত্র মিজানুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত জলদস্যুদের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। জাহাজের নাবিকেরা ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জলদস্যুরা নাবিকদের কোনো ক্ষতি করেনি। তাদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি। জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জলদস্যুদের মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিকে গুজব দাবি করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো দাবি-দাওয়া জানায়নি জলদস্যুরা। হয়তো জাহাজটিকে তাদের সেফ জোনে নেওয়ার পর তখন তারা তাদের দাবির বিষয়টি বলতে পারে।

৫৮ হাজার ৩৪৭ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন

জাহাজের দায়িত্ব নিয়েছে নতুন আরেকটি জলদস্যু দল

আপডেট: ০৬:৫৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মার্চ ২০২৪

মিশু দাশ: বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ’র দায়িত্ব নিয়েছে সোমালিয়ান জলদস্যুদের অপর একটি দল। তাদের হাতে জাহাজটি বুঝিয়ে দিয়ে আগের দলটি জাহাজ ছেড়ে গেছে। সোমালিয়ান সময় দুপুর ১টার দিকে এ হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হয়। নতুন যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের সবার হাতে রয়েছে ভারী অস্ত্র।

আজ ১৪ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ তথ্য জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জিম্মি নাবিক।

তিনি জানান, বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ এই মুহূর্তে সোমালিয়ার গারাকাড উপকূল থেকে ২০ মাইল দূরে নোঙ্গর করা আছে। নোঙ্গর করার পর ১৯ জনের একটি নতুন দল জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয়। অন্যদিকে জাহাজ হাইজ্যাকে নেতৃত্ব দেওয়া দলটি জাহাজ ছেড়ে যায়। জিম্মি নাবিক বলেন, জলদস্যুদের প্রথম দলটি অনেকটা হালকা অস্ত্র বহন করছিল। এখন যারা দায়িত্ব নিয়েছে ওদের সবার হাতে ভারী অস্ত্র। তবে তারা নাবিকদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করেনি। বরং এক রুমের বন্দিদশা থেকে সবাইকে যার যার রুমে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত নাবিকরা সুস্থ আছেন, তাদের ওপর নির্যাতন করেনি সোমালিয়ার জলদস্যুরা। তবে ছিনতাই হওয়া জাহাজের পিছু নেওয়া নেভির জাহাজের কারণে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত রয়েছে জিম্মি নাবিকরা। নেভির জাহাজের কারণে নাবিকদের সমস্যা হবে বলে জানাচ্ছে জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় নতুন জলদস্যুরা। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুর দুইটার দিকে এক বন্দি নাবিক তার পরিবারকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

নাবিক পরিবারের সদস্য বলেন, দুপুর দুইটার দিকে তার (নাবিক) সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তাদের জলদস্যুরা আরেকটি গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করেছে। ওই গ্রুপ জাহাজের মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। তিনি আরো বলেন, এখনও নেভির জাহাজটি ফলোআপে আছে। যার কারণে ওই জাহাজে থাকা জলদস্যুরা বলছে, নেভির জাহাজ থাকলে নাবিকরা সমস্যায় পড়তে পারে।

সবশেষে তিনি আমাদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। যদিও এখন মুক্তিপণ বা অন্য কী উপায়ে নাবিকদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জলদস্যুরা যোগাযোগ করেনি এমভি আবদুল্লাহ’র মালিকপক্ষের সঙ্গে। জানায়নি তাদের দাবি-দাওয়া। তবে জাহাজসহ জিম্মি নাবিকদের ফিরিয়ে আনতে তৃতীয়পক্ষ হিসেবে জাহাজটির বিমাকারী যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে জাহাজের মালিকপক্ষ। এতে কতদিন সময় লাগতে পারে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না তারা।

এর আগে গত ১২ মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টার দিকে ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। সে সময় সোমালিয়া উপকূল থেকে ৪৫০ ন্যাটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল জাহাজটি। দস্যুদের কাছে জিম্মি ২৩ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু। আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে জাহাজটি জলদস্যুর কবলে পড়ে। এরপর বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাহাজটি ভারত মহাসাগর থেকে সোমালিয়া নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু করে দস্যুরা। ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়া ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে উদ্ধার করতে গতকাল ১৩ মার্চ বুধবার রাতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিজস্ব নেভির একটি জাহাজ তাদের পিছু নিয়েছে বলে জানা গেছে। জলদস্যু ও ইইউর জাহাজে থাকা নৌসেনাদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। একপর্যায়ে জিম্মি বাংলাদেশিদের হত্যার হুমকি দেয় জলদস্যুরা। এরপর কোনো উপায় না থাকায় পিছু হটে ইইউ নেভির জাহাজটি।

সোমালিয়ার স্থানীয় সময় ১৩ মার্চ বুধবার রাত থেকে এখন পর্যন্ত ইইউ নেভির জাহাজটি তাদের অনুসরণ করে যাচ্ছে। কিন্তু জলদস্যুদের অনড় অবস্থানের কারণে জিম্মি থাকা ২৩ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ২০ নটিক্যাল মাইল দূর থেকে বাংলাদেশি পতাকাবাহী এমবি আব্দুল্লাহ’কে অনুসরণ করে যাচ্ছে ইইউর জাহাজটি। ইতোমধ্যে সোমালিয়া জলদস্যুদের নিয়ন্ত্রিত জলসীমান্তে প্রবেশ করেছে কেএসআরএমের মালিকানাধীন বাংলাদেশি জাহাজটি।

কেএসআরএমের মুখপাত্র মিজানুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত জলদস্যুদের পক্ষ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। জাহাজের নাবিকেরা ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জলদস্যুরা নাবিকদের কোনো ক্ষতি করেনি। তাদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয় আমরা সেই চেষ্টা করছি। জিম্মিদের ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জলদস্যুদের মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিকে গুজব দাবি করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোনো দাবি-দাওয়া জানায়নি জলদস্যুরা। হয়তো জাহাজটিকে তাদের সেফ জোনে নেওয়ার পর তখন তারা তাদের দাবির বিষয়টি বলতে পারে।