হেলাল আহমদ, বালাগঞ্জ প্রতিনিধি: চলছে মাঘ মাস। ফাল্গুন আসতে এখনও ১৫ দিন বাকি। এরই মধ্যে সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। সামান্য দৃষ্টি নিক্ষেপেই চোখে পড়ে মুকুলে ছেয়ে আছে অসংখ্য আমগাছ। এভাবে ফাল্গুনের আগেই গাছে গাছে প্রস্ফুটিত আমের মুকুল সর্বত্র ছড়াচ্ছে হাল্কা স্বর্ণালি আভা। এরই মধ্যে সিলেটের গাছে গাছেও একইভাবে উঁকি দিতে শুরু করেছে আম্রমুকুল। গাছে গাছে আগাম মুকুলের দেখা মেলায় চাষীরা বেশ খুশি। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মৌসুম শুরুর আগে গাছে মুকুল আসা তেমনটা ভাল লক্ষণ নয়।
কারণ, আগে ভাগে আসা মুকুল কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে কমবে আমের ফলন। তবে গাছে গাছে আগাম মুুকুলে চাষিরা খুশি। তারা ইতোমধ্যে বাগানের পরিচর্যা শুরু করে দিয়েছেন। তবে এবার মাঘের দ্বিতীয় সপ্তাহের পর থেকে প্রস্ফুটিত হতে শুরু করেছে মুকুল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার গাছে গাছে মুকুলের সমারোহ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা বিভিন্ন গ্রামের বাড়িতে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে। সোনারাঙা সেই মুকুলের সৌরভ ছড়াচ্ছে বাতাসে। বাড়িক মালিক বলছেন, মাঘের মাঝামাঝিতে গাছে মুকুল দেখে তারা বুঝছেন, আমের মৌসুম এসে যাচ্ছে। গাছগুলোর যত্ন নিতে পরিশ্রম শুরু করে দিয়েছেন। কৃষিবিদদের মতে, আমের গাছে এখনো মুকুল আসার পূর্ণ সময় হয়নি। তারপরও সিলেটে গাছে গাছে আমের মুকুল দেখা যাচ্ছে। গাছের আগাম মুকুল মাঘের ঘন কুয়াশায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা করছেন কৃষকরা। শহরতলীর কৃষক শাহিদ আহমদ বলেন, গত বছরের মতো এখনো মুকুল ধরেনি আম গাছে। হয়তো সময়ের আগে আসায় সব গাছে মুকুল ধরেনি। গাছে আমের মুকুল এসেছে। মুকুলের বাহারি রং বাড়ির প্রকৃতির রং বদলে দিয়েছে।
আমের মুকুল ঘিরে মধু আহরণে মৌমাছির ঘনঘটা আর পাখিদের কলতানে মুখর প্রকৃতি। তবে, এবার একটু আগেই গাছে মুকুল এসেছে। তাই ঝরে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। প্রতিবছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। এবারো আসতে শুরু করেছে। আর আবহাওয়া বৈরী হলে ফলন মেলে না। তবে নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে।


























