ডেস্ক রিপোর্ট | সূর্যোদয় : দেশে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে বাজারে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা হলেও বিভিন্ন এলাকায় ভোক্তাদের কাছ থেকে ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই বাজারে এলপিজি সরবরাহে সংকটের সূত্রপাত হয়। একটি রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে ৫টি কোম্পানি গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে এলপিজি বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দেয়। নতুন দামে বিক্রির আশায় এসব কোম্পানি হাজার হাজার টন এলপিজি মজুদ করে রাখে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগস্ট মাসে দেশে প্রায় ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসেও আমদানি হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। অর্থাৎ আমদানির পরিমাণে বড় ধরনের ঘাটতি না থাকলেও বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে শুধু সরবরাহ কমে যাওয়া নয়, বিইআরসি ঘোষিত দরের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি গত ২১ সেপ্টেম্বর বিইআরসি চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগে জানায়, পরিবেশকদের জন্য নির্ধারিত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৪৭৫ টাকা হলেও তাদের ১ হাজার ৫৫০ থেকে ১ হাজার ৭২০ টাকা পর্যন্ত দরে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। ফলে বিইআরসি নির্ধারিত ১ হাজার ৫৮৫ টাকা দরে বাজারে এলপিজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, সরবরাহ পর্যায়েই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হওয়ায় এর প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যেও এলপিজি অবৈধভাবে মজুদের বিষয়টি উঠে এলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা দৃশ্যমান নয়। জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হলেও বাজারে এর প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল কিছু খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীদের অনেকে। তাদের মতে, সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা না করে শুধু খুচরা পর্যায়ে অভিযান চালালে বাজারে এলপিজির মূল্য নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। ভোক্তাদের অভিযোগ, একদিকে বিইআরসি নির্ধারিত দাম কার্যকর হচ্ছে না, অন্যদিকে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ায় অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। এতে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল সাধারণ মানুষের বাড়তি ব্যয় বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে প্রকৃত সংকট রয়েছে কি না, কোথায় কত পরিমাণ এলপিজি মজুদ রয়েছে এবং আমদানিকারক পর্যায় থেকে কেন নির্ধারিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে না, তা দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করতে আমদানিকারক, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ে সমন্বিত নজরদারি জোরদারের দাবি উঠেছে। এলপিজির বাজারে চলমান সংকটের পেছনে সরবরাহ ঘাটতি, মজুদদারি নাকি নতুন দামের প্রত্যাশায় বাজারে পণ্য ছাড়ার অনীহা কাজ করছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১০:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
















