০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েত-জর্ডান-বাইরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলা

  • আপডেট: ১২:৩২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • 17

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : || : হরমুজ প্রণালির আশেপাশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে জর্ডান এবং পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। বুধবার ১০ জুন ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে। এই সংঘর্ষের মাধ্যমে গত এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটল। খবর রয়টার্সের। বুধবার ১টায় (গ্রিনিচ মান সময়) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপিতিত করার প্রতিক্রিয়ায় তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মার্কিন হামলাটি প্রায় ৪ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পর শেষ হয়েছে। ২০টির মতো ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এবং বন্দর নগরী সিরিক-এ হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যানুযায়ী, কাছাকাছি বন্দর আব্বাস এবং পরবর্তীতে প্রণালির প্রবেশদ্বারের কাছে জাস্ক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি এই প্রতিক্রিয়া খুব জোরালো ও শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল এবং এটি তেমনই হয়েছে। ট্রাম্পের এই বিবৃতির পরপরই কুয়েত এবং বাহরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানি হামলা শুরু হয়। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এর জবাবে তারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জর্ডানের মার্কিন আল-আজরাক ঘাঁটির চারটি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইআরজিসি আরো জানায়, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে এফ-৩৫ ফাইটার জেটের হ্যাঙ্গার এবং একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার ছিল। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, পরবর্তীতে যেকোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে তারা আরো ‘বিধ্বংসী এবং চূড়ান্ত’ জবাব দিতে প্রস্তুত। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী বুধবার জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আল-আজরাকের দিকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে। সামরিক বাহিনী আরো যোগ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়লেও এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের আকাশযানগুলোকে প্রতিহত করছে এবং তারা জনগণকে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছিল যে, তারা কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং সংঘাত অব্যাহত থাকলে ‘আরো ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার’ হুমকি দিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে সতর্কীকরণ সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাহরাইনের রাজার একজন মিডিয়া উপদেষ্টা এক্স-এ এক পোস্টে জানান, বাহরাইনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে ইরান থেকে ছোঁড়া প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনই মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।রয়টার্সও যুদ্ধক্ষেত্রের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

বৃহস্পতিবার মেক্সিকোর আজটেকায় পর্দা উঠছে বিশ্বকাপ ফুটবলের

কুয়েত-জর্ডান-বাইরাইনে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ব্যাপক হামলা

আপডেট: ১২:৩২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : || : হরমুজ প্রণালির আশেপাশে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলার জবাবে জর্ডান এবং পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। বুধবার ১০ জুন ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) এ তথ্য জানিয়েছে। এই সংঘর্ষের মাধ্যমে গত এপ্রিল মাসে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা ঘটল। খবর রয়টার্সের। বুধবার ১টায় (গ্রিনিচ মান সময়) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানায়, গতকাল মঙ্গলবার ৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপিতিত করার প্রতিক্রিয়ায় তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মার্কিন হামলাটি প্রায় ৪ ঘণ্টা স্থায়ী হওয়ার পর শেষ হয়েছে। ২০টির মতো ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এবং বন্দর নগরী সিরিক-এ হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যানুযায়ী, কাছাকাছি বন্দর আব্বাস এবং পরবর্তীতে প্রণালির প্রবেশদ্বারের কাছে জাস্ক এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমি মনে করি এই প্রতিক্রিয়া খুব জোরালো ও শক্তিশালী হওয়া উচিত ছিল এবং এটি তেমনই হয়েছে। ট্রাম্পের এই বিবৃতির পরপরই কুয়েত এবং বাহরাইনসহ বিভিন্ন স্থানে ইরানি হামলা শুরু হয়। ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, এর জবাবে তারা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে জর্ডানের মার্কিন আল-আজরাক ঘাঁটির চারটি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। আইআরজিসি আরো জানায়, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে এফ-৩৫ ফাইটার জেটের হ্যাঙ্গার এবং একটি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টার ছিল। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে, পরবর্তীতে যেকোনো মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে তারা আরো ‘বিধ্বংসী এবং চূড়ান্ত’ জবাব দিতে প্রস্তুত। জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনী বুধবার জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে আল-আজরাকের দিকে ছোঁড়া পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করেছে। সামরিক বাহিনী আরো যোগ করেছে, ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ জর্ডানের ভূখণ্ডে পড়লেও এতে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি। কুয়েতের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের আকাশযানগুলোকে প্রতিহত করছে এবং তারা জনগণকে সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছিল যে, তারা কুয়েতের আলি আল সালেম ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং সংঘাত অব্যাহত থাকলে ‘আরো ভয়াবহ প্রতিক্রিয়ার’ হুমকি দিয়েছে। বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেখানে সতর্কীকরণ সাইরেন বাজানো হয়েছে এবং জনগণকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাহরাইনের রাজার একজন মিডিয়া উপদেষ্টা এক্স-এ এক পোস্টে জানান, বাহরাইনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে ইরান থেকে ছোঁড়া প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনই মিত্রবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।রয়টার্সও যুদ্ধক্ষেত্রের এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।