প্রধান প্রতিবেদক, আকাশ দেব নাথ : প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুস দীর্ঘ ১৮ বছর পর নিজ পৈত্রিক গ্রাম চট্টগ্রামের হাটহাজারীর বাথুয়ায় ফিরে আসেন। এ উপলক্ষে স্থানীয় বাসিন্দা, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা আবেগাপ্লুত হয়ে তাকে সাদর অভ্যর্থনা জানান। তাকে ঘিরে গ্রামে সৃষ্টি হয় এক আনন্দঘন পরিবেশ।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর প্রফেসর ইউনুস সরাসরি যান বাথুয়া গ্রামের নিজ বাড়ি — নাজু মিয়া সওদাগর বাড়িতে। বিকেল ৫টার পর তিনি পৌঁছালে অপেক্ষারত স্বজন ও গ্রামবাসীরা উচ্ছ্বাসভরে তাকে বরণ করেন। তিনি নিজ গ্রামের মানুষদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, “আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তনে এসেছিলাম। সুযোগ নিয়ে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এলাম। আমার খুব ভালো লাগছে। আপনাদের সঙ্গে দেখা করে আনন্দিত। আমার জন্য দোয়া করবেন।”
এর আগে তিনি পরিবারের প্রয়াত সদস্যদের কবর জিয়ারত করেন, যারা নুরআলি বাড়ি পোস্ট অফিসের পাশে অবস্থিত কবরস্থানে শায়িত আছেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাথুয়ায় যাওয়ার পথে প্রফেসর ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রথম শাখা জোবরা গ্রামে পরিদর্শন করেন এবং সেখানে নির্মিত “জোবরা জাদুঘর” ঘুরে দেখেন। উল্লেখ্য, এখান থেকেই বিশ্বজয়ী ক্ষুদ্রঋণ ধারণার যাত্রা শুরু হয়।
প্রধান উপদেষ্টার চাচাতো ভাই শেখ হারুন বলেন, “নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস আমাদের বাথুয়া গ্রামের গর্ব। প্রায় ১৮ বছর পর তিনি নিজ বাড়িতে এলেন, এটা আমাদের জন্য গর্বের ও আবেগঘন মুহূর্ত।”
এর আগে সকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি-৫) পরিদর্শন করেন তিনি। এরপর সার্কিট হাউসে গিয়ে বহু প্রত্যাশিত কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এছাড়া, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের জন্য জমির দলিল হস্তান্তর করেন।
প্রায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বিদায় মুহূর্তে রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষ হাত নেড়ে তাকে বিদায় জানান।























