০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাঁতমারায় বিরোধীদের দমনে ক্যাডার লালন পালন করতো যুবলীগনেতা জাকির

  • আপডেট: ০২:০৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪
  • 256

সূর্যোদয় প্রতিবেদক : রিক্সা চালক থেকে মাদক ডন এরপর টাকা দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির পদ। চট্টগ্রাম শহর ও কুমিল্লায় কিনেছেন বিপুল পরিমাণ জমি। তার নাম ইয়াবা ব্যাবসায়ী মাদক ডন জাকির হোসেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের আন্তজেলা ডিপো হিসেবে পরিচিতি ফটিকছড়ির উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের হোসেন্যারখীল ও নিচিন্তায় তার ভাগিনাদের নিয়ে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে রীতিমতো ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন চারদিক থেকে। তার কথাই ছিলো হোসেন্যারখীল ও নিচিন্তায় শেষ কথা। অলিখিত আইন। জানা গেছে, জাকির হোসেন ইউনিয়নের হোসেন্যারখীল এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল হোসেনের ছেলে। একসময় ছিলেন চট্টগ্রাম শহরের রিক্সা চালক ও ভাসমান মাদক ব্যবসায়ী। গত ২০২৩ সালে ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ার পরই রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ নয়, রীতিমতো বটগাছ বনে যান এই মাদকের ডন জাকির হোসেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় একটি প্রাইভেট কার থেকে ২ লাখ ইয়াবাসহ চাঁন মিয়াকে ২ জন সঙ্গীসহ গ্রেপ্তারের পর জাকিরের নাম আসে। গ্রেপ্তারকৃতরা বলেন, ইয়াবাগুলো জাকিরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে জাকিরকে গ্রেপ্তার করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায় র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির ভূজপুর ও নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ফটিকছড়ির ভূজপুর এলাকায় জাকিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ৮০টি মাদকের স্পট। সেখানে প্রকাশ্যে চলে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বেচাকেনা। জাকিরের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তার ভাগিনা ও ভাগনি জামাই। এ ছাড়াও হোসেন্যারখীল ও নিচিন্তায় এলাকায় রাবার বাগানের সরকারী জমি দখল করে প্লট বাণিজ্য, প্রতারণা, জুলুমবাজি আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শূন্য থেকে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন জাকির। তবে দীর্ঘদিন ধরে হোসেন্যারখীল ও দাঁতমারা ও কুমিল্লায় মাদকের একচ্ছত্র ব্যবসা করে আসছেন জাকির। তার দাঁতমারা ইউনিয়নে আধিপত্য ধরে রাখতে অন্তত ২০০ জন অস্ত্রধারী ক্যাডার লালন পালন করতো জাকির। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের পর এলাকা থেকে পালিয়ে যান এই যুবলীগনেতা। জানাগেছে, হোসেন্যারখীলে রাবার বাগানের গাছ কেটে সরকারী জায়গা দখল করে গড়ে তোলেন যুবলীগের অফিস। জানাগেছে, এই অফিসটি ছিলো বিরোধীদের নির্যাতনের স্থান। উত্তেজিত জনতা যুবলীগের এই অফিসটি গত ৬ আগষ্ঠ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। অবিলম্বে মাদক ব্যবসায়ী যুবলীগনেতা জাকিরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সেনা বাহিনীকে স্থানীয়রা অনুরোধ জানান।

সর্বাধিক পঠিত

আজ শুক্রবার ১০ মহররম পবিত্র আশুরা

দাঁতমারায় বিরোধীদের দমনে ক্যাডার লালন পালন করতো যুবলীগনেতা জাকির

আপডেট: ০২:০৪:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪

সূর্যোদয় প্রতিবেদক : রিক্সা চালক থেকে মাদক ডন এরপর টাকা দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতির পদ। চট্টগ্রাম শহর ও কুমিল্লায় কিনেছেন বিপুল পরিমাণ জমি। তার নাম ইয়াবা ব্যাবসায়ী মাদক ডন জাকির হোসেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদকের আন্তজেলা ডিপো হিসেবে পরিচিতি ফটিকছড়ির উপজেলার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের হোসেন্যারখীল ও নিচিন্তায় তার ভাগিনাদের নিয়ে অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে রীতিমতো ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন চারদিক থেকে। তার কথাই ছিলো হোসেন্যারখীল ও নিচিন্তায় শেষ কথা। অলিখিত আইন। জানা গেছে, জাকির হোসেন ইউনিয়নের হোসেন্যারখীল এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল হোসেনের ছেলে। একসময় ছিলেন চট্টগ্রাম শহরের রিক্সা চালক ও ভাসমান মাদক ব্যবসায়ী। গত ২০২৩ সালে ফটিকছড়ির দাঁতমারা ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হওয়ার পরই রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ নয়, রীতিমতো বটগাছ বনে যান এই মাদকের ডন জাকির হোসেন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের নতুন ব্রিজ এলাকায় একটি প্রাইভেট কার থেকে ২ লাখ ইয়াবাসহ চাঁন মিয়াকে ২ জন সঙ্গীসহ গ্রেপ্তারের পর জাকিরের নাম আসে। গ্রেপ্তারকৃতরা বলেন, ইয়াবাগুলো জাকিরের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাচ্ছিলেন। পরবর্তীতে জাকিরকে গ্রেপ্তার করতে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালায় র‌্যাব। তার বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির ভূজপুর ও নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় বেশ কয়েকটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ফটিকছড়ির ভূজপুর এলাকায় জাকিরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় ৮০টি মাদকের স্পট। সেখানে প্রকাশ্যে চলে ইয়াবা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক বেচাকেনা। জাকিরের হয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তার ভাগিনা ও ভাগনি জামাই। এ ছাড়াও হোসেন্যারখীল ও নিচিন্তায় এলাকায় রাবার বাগানের সরকারী জমি দখল করে প্লট বাণিজ্য, প্রতারণা, জুলুমবাজি আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শূন্য থেকে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন জাকির। তবে দীর্ঘদিন ধরে হোসেন্যারখীল ও দাঁতমারা ও কুমিল্লায় মাদকের একচ্ছত্র ব্যবসা করে আসছেন জাকির। তার দাঁতমারা ইউনিয়নে আধিপত্য ধরে রাখতে অন্তত ২০০ জন অস্ত্রধারী ক্যাডার লালন পালন করতো জাকির। বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের পর এলাকা থেকে পালিয়ে যান এই যুবলীগনেতা। জানাগেছে, হোসেন্যারখীলে রাবার বাগানের গাছ কেটে সরকারী জায়গা দখল করে গড়ে তোলেন যুবলীগের অফিস। জানাগেছে, এই অফিসটি ছিলো বিরোধীদের নির্যাতনের স্থান। উত্তেজিত জনতা যুবলীগের এই অফিসটি গত ৬ আগষ্ঠ আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। অবিলম্বে মাদক ব্যবসায়ী যুবলীগনেতা জাকিরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে সেনা বাহিনীকে স্থানীয়রা অনুরোধ জানান।