০১:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পিরোজপুরের আদম ব্যবসায়ী সোহাগের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব ৪ পরিবার

  • আপডেট: ০১:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • 213

মোহাম্মদ এরশাদুল হক আরব আমিরাত থেকে: পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের মো. সোহাগ ভুঁইয়া (৩০) নামের এক আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে একই এলাকার ৪ পরিবার নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদম ব্যবসায়ী সোহাগ নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের রুহিতলাবুনিয়া গ্রামের মো. আলঙ্গীর ভুঁইয়ার ছেলে। ভুক্তভোগীরা হলেন, একই উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কাজীর ছেলে মো. জুয়েল কাজী, সামসুল হক কাজীর ছেলে, কাজী এমদাদুল হক, মৃত আব্দুল মালেক কাজীর ছেলে কাজী আল-মামুন, এছাড়া ঝালকাঠী জেলার ১ নং চেচরিরামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চেচরি গ্রামের তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে আল-আমিন হওলাদার। এদের প্রত্যেকের নিকট থেকে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ওই চার ভুক্তভোগী পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপারের নিকট অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী সোহাগ ও তার পিতা আলমগীর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একটি অভিযোপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. সোহাগ ভুঁইয়া কয়েক বছর যাবত দুবাই থাকেন এবং সেখানে এবি ট্রাভেল এন্ড টাইপিং এবং সোহাগ ভুঁইয়া প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস নামের দুটি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ সুবাদে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধারণ মানুষকে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকুরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে দুবাই নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের কোন চাকুরি না দিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও জিম্মি করে স্ট্যাম্পে জোড় পূর্ব স্বাক্ষর রেখে টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে দুবাই পুলিশকে দিয়ে ধরিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়। এছাড়া প্রতারক সোহাগ ভূঁইয়ার পিতা মো. আলঙ্গীর ভুঁইয়া তিনি নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক সংগ্রহ করে ছেলের প্রতারণায় সহযোগিতা করছে। ভুক্তভোগী কাজী আল-মামুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতারক সোহাগের সাথে আমার খুবই ভাল সম্পর্ক ছিল, সে আমাকে দুবাই তাহার ব্যবসার অংশীদার হিসাবে রাখবে বলে আশ্বাস দেয় এবং আমি আমার ভিটে মাটি বিক্রি করে সোহাগের প্রলোভনে এবছর ৩ জুন তার পিতা আলঙ্গীর ভূঁইয়ার নিকট দুই ধাপে তাকে ২১ লক্ষ টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে আমি দুবাই গেলে আমাকে কোন কাজ বা ব্যবসার অংশীদার না দিয়ে কয়েকমাস জিম্মি রেখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে রাখে এবং দেশে ফেরত না গেলে আমাকে দুবাই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলা হাজত খাটাবে মর্মে হুমকি দেয়। এবং বলে দেশে ফিরে এলে আমাকে ৪ লক্ষ টাকা ফেরত দেয় বাকি ১৭ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে আমাকে মার-ধর এবং মিথ্যা মামলার জন্য হুমকি-ধামকি দেয়, বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিশ সুপার পিরোজপুরের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করি। অভিযুক্ত দুবাই প্রবাসী মো.সোহাগ ভুঁইয়ার ব্যবহৃত নম্বরের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গী

পিরোজপুরের আদম ব্যবসায়ী সোহাগের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব ৪ পরিবার

আপডেট: ০১:১২:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মোহাম্মদ এরশাদুল হক আরব আমিরাত থেকে: পিরোজপুর জেলার নাজিরপুরের মো. সোহাগ ভুঁইয়া (৩০) নামের এক আদম ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে একই এলাকার ৪ পরিবার নিঃস্ব হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আদম ব্যবসায়ী সোহাগ নাজিরপুর সদর ইউনিয়নের রুহিতলাবুনিয়া গ্রামের মো. আলঙ্গীর ভুঁইয়ার ছেলে। ভুক্তভোগীরা হলেন, একই উপজেলার একই গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কাজীর ছেলে মো. জুয়েল কাজী, সামসুল হক কাজীর ছেলে, কাজী এমদাদুল হক, মৃত আব্দুল মালেক কাজীর ছেলে কাজী আল-মামুন, এছাড়া ঝালকাঠী জেলার ১ নং চেচরিরামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম চেচরি গ্রামের তৈয়ব আলী হাওলাদারের ছেলে আল-আমিন হওলাদার। এদের প্রত্যেকের নিকট থেকে প্রতারণা করে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ওই চার ভুক্তভোগী পিরোজপুর জেলা পুলিশ সুপারের নিকট অভিযুক্ত আদম ব্যবসায়ী সোহাগ ও তার পিতা আলমগীর ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে একটি অভিযোপত্র দাখিল করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. সোহাগ ভুঁইয়া কয়েক বছর যাবত দুবাই থাকেন এবং সেখানে এবি ট্রাভেল এন্ড টাইপিং এবং সোহাগ ভুঁইয়া প্রোজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস নামের দুটি ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এ সুবাদে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সাধারণ মানুষকে মোটা অঙ্কের বেতনে চাকুরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে দুবাই নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীদের কোন চাকুরি না দিয়ে শারীরিক নির্যাতন ও জিম্মি করে স্ট্যাম্পে জোড় পূর্ব স্বাক্ষর রেখে টাকা দাবি করে এবং টাকা না দিলে দুবাই পুলিশকে দিয়ে ধরিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটানোর হুমকি দেয়। এছাড়া প্রতারক সোহাগ ভূঁইয়ার পিতা মো. আলঙ্গীর ভুঁইয়া তিনি নিজ এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে লোক সংগ্রহ করে ছেলের প্রতারণায় সহযোগিতা করছে। ভুক্তভোগী কাজী আল-মামুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রতারক সোহাগের সাথে আমার খুবই ভাল সম্পর্ক ছিল, সে আমাকে দুবাই তাহার ব্যবসার অংশীদার হিসাবে রাখবে বলে আশ্বাস দেয় এবং আমি আমার ভিটে মাটি বিক্রি করে সোহাগের প্রলোভনে এবছর ৩ জুন তার পিতা আলঙ্গীর ভূঁইয়ার নিকট দুই ধাপে তাকে ২১ লক্ষ টাকা প্রদান করি। পরবর্তীতে আমি দুবাই গেলে আমাকে কোন কাজ বা ব্যবসার অংশীদার না দিয়ে কয়েকমাস জিম্মি রেখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে রাখে এবং দেশে ফেরত না গেলে আমাকে দুবাই পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলা হাজত খাটাবে মর্মে হুমকি দেয়। এবং বলে দেশে ফিরে এলে আমাকে ৪ লক্ষ টাকা ফেরত দেয় বাকি ১৭ লক্ষ টাকা ফেরত চাইলে আমাকে মার-ধর এবং মিথ্যা মামলার জন্য হুমকি-ধামকি দেয়, বিষয়টি নিয়ে আমি পুলিশ সুপার পিরোজপুরের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করি। অভিযুক্ত দুবাই প্রবাসী মো.সোহাগ ভুঁইয়ার ব্যবহৃত নম্বরের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ও তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি গ্রহণ করার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।