Dhaka ০৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০২৪, ১ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জামাল ফকির ফটিকছড়ির দাঁতমারায় গড়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী ও মাদকের আস্তানা

মুসলেহ উদ্দিন আল রাজি: চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই উপজেলার করেরহাট এলাকায় মাদক বিক্রির অপরাধে স্থানীয় এলাকাবাসীর তাড়া খাওয়া জামাল উদ্দিন ফকির এখন ফটিকছড়ির দাঁতমারার মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী হিসাবে কুখ্যাত। বর্তমানে নতুন সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে তিনি ফটিকছড়িব উপজেলার ভূজপুর থানার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর ও হোসেন্যোরখীলে গড়ে তুলেছেন মাদকের হাট ও সন্ত্রাসী বাহিনী।

করেরহাট এলাকার এই মাদক ব্যবসায়ী জামাল ফকিরের ত্রাসের রাজত্বে ফটিকছড়ির ভূজপুর আবারো সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় পরিনত হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসা ছাড়াও ইসলামপুর ও হোসেন্যোরখীলে এশিয়ার বৃহত্তম দাঁতমারা রাবার বাগানের ৫ একর জায়গা দখল প্লট আকারে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দাঁতমারা রাবার বাগানের কর্মকর্তা কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীরা মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির এর কাছে এখন অসহায়।

জানা গেছে, ১ নং করেরহাট ইউনিয়ের ৪ নং ওয়ার্ডের ভালুকিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমানের ছেলে জামাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় ১৯টি মামলা রয়েছে।

১৯ টি মামলার মধ্যে ১১ টি জোরারগঞ্জ থানায়, ৪টি ভূজপুর থানায়,  ফেনী সদর থানায় ২টি, ছাগলনাইয়া থানায় ১টি ও সিএমপির কোতয়ালী থানায় ১টি মামলা রয়েছে। এই ১৯টি মামলা নিয়ে পুলিশের চোখ ফাকি দিতে ফটিকছড়িব উপজেলার ভূজপুর থানার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে বসবাস করে আসছেন জামাল ফকির।

স্থানীয়রা জানান, দাঁতমারার মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারা বেগমের মেয়ে বিয়ে করে জামাল উদ্দিন ফকির এ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী। তার শ্বশুর শাশুড়ী ও শালারাসহ পূরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে ডজন ডজন মামলা।

এদিকে, মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকিরকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফটিকছড়ির দাঁতমারায় মিছিল করে এলাকাবাসী।

গত ৫ ডিসেম্বর মাদক সম্রাট ও জামাল বাহিনীর নির্যাতনের থেকে রেহায় পেতে দাঁতমারার ইসলামপুরে হাজার হাজার নারীপুরুষ রাস্তায় নেমে এসে মিছিল ও মানববন্ধন করে।

এসময় ভূজপুর থানার ওসি কামরুজ্জামান উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে মানববন্ধন শেষ করেন তারা।

এ ব্যাপারে ভূজপুর থানার ওসি কামরুজ্জামান দৈনিক সূর্যোদয়কে বলেন, এরা এলাকায় যেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে না পারে সেজন্য পুলিশ নজরদারি করছে।

এদিকে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, জোরারগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদকসহ ১৯টি মামলায় পলাতক আসামি হিসাবে সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির এর নাম উল্লেখ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইসলামপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রাসেল জানান, সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির করেরহাট থেকে এসে এই এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের এনে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে।

সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির ও তার সহযোগী কালা সবুজের নেতৃত্বে স্থানীয়দের উপর একর পর এক নির্য়াতন চালানোর পর এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে আসে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

https://dainiksurjodoy.com/wp-content/uploads/2023/12/Green-White-Modern-Pastel-Travel-Agency-Discount-Video5-2.gif

কোটা বাতিলের এক দফা দাবিতে উত্তাল রাজধানী, যানচলাচল বন্ধ

জামাল ফকির ফটিকছড়ির দাঁতমারায় গড়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী ও মাদকের আস্তানা

Update Time : ০১:৩১:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩

মুসলেহ উদ্দিন আল রাজি: চট্টগ্রামের মিরশ্বরাই উপজেলার করেরহাট এলাকায় মাদক বিক্রির অপরাধে স্থানীয় এলাকাবাসীর তাড়া খাওয়া জামাল উদ্দিন ফকির এখন ফটিকছড়ির দাঁতমারার মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী হিসাবে কুখ্যাত। বর্তমানে নতুন সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে তিনি ফটিকছড়িব উপজেলার ভূজপুর থানার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর ও হোসেন্যোরখীলে গড়ে তুলেছেন মাদকের হাট ও সন্ত্রাসী বাহিনী।

করেরহাট এলাকার এই মাদক ব্যবসায়ী জামাল ফকিরের ত্রাসের রাজত্বে ফটিকছড়ির ভূজপুর আবারো সন্ত্রাস কবলিত এলাকায় পরিনত হয়েছে। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ও মাদক ব্যবসা ছাড়াও ইসলামপুর ও হোসেন্যোরখীলে এশিয়ার বৃহত্তম দাঁতমারা রাবার বাগানের ৫ একর জায়গা দখল প্লট আকারে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। দাঁতমারা রাবার বাগানের কর্মকর্তা কর্মচারী ও নিরাপত্তা বাহিনীরা মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির এর কাছে এখন অসহায়।

জানা গেছে, ১ নং করেরহাট ইউনিয়ের ৪ নং ওয়ার্ডের ভালুকিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমানের ছেলে জামাল উদ্দিন ফকিরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় ১৯টি মামলা রয়েছে।

১৯ টি মামলার মধ্যে ১১ টি জোরারগঞ্জ থানায়, ৪টি ভূজপুর থানায়,  ফেনী সদর থানায় ২টি, ছাগলনাইয়া থানায় ১টি ও সিএমপির কোতয়ালী থানায় ১টি মামলা রয়েছে। এই ১৯টি মামলা নিয়ে পুলিশের চোখ ফাকি দিতে ফটিকছড়িব উপজেলার ভূজপুর থানার ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে বসবাস করে আসছেন জামাল ফকির।

স্থানীয়রা জানান, দাঁতমারার মাদক ব্যবসায়ী আনোয়ারা বেগমের মেয়ে বিয়ে করে জামাল উদ্দিন ফকির এ এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিশাল এক সন্ত্রাসী বাহিনী। তার শ্বশুর শাশুড়ী ও শালারাসহ পূরো পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত। তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে ডজন ডজন মামলা।

এদিকে, মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকিরকে দ্রুত গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফটিকছড়ির দাঁতমারায় মিছিল করে এলাকাবাসী।

গত ৫ ডিসেম্বর মাদক সম্রাট ও জামাল বাহিনীর নির্যাতনের থেকে রেহায় পেতে দাঁতমারার ইসলামপুরে হাজার হাজার নারীপুরুষ রাস্তায় নেমে এসে মিছিল ও মানববন্ধন করে।

এসময় ভূজপুর থানার ওসি কামরুজ্জামান উপস্থিত হয়ে সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিলে মানববন্ধন শেষ করেন তারা।

এ ব্যাপারে ভূজপুর থানার ওসি কামরুজ্জামান দৈনিক সূর্যোদয়কে বলেন, এরা এলাকায় যেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে না পারে সেজন্য পুলিশ নজরদারি করছে।

এদিকে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, জোরারগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদকসহ ১৯টি মামলায় পলাতক আসামি হিসাবে সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির এর নাম উল্লেখ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ২ নং দাঁতমারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ইসলামপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রাসেল জানান, সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির করেরহাট থেকে এসে এই এলাকায় ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের এনে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছে।

সন্ত্রাসী জামাল উদ্দিন ফকির ও তার সহযোগী কালা সবুজের নেতৃত্বে স্থানীয়দের উপর একর পর এক নির্য়াতন চালানোর পর এলাকাবাসী রাস্তায় নেমে আসে।