Dhaka ১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মে ২০২৩
  • 16232

সূর্যোদয় প্রতিবেদক : বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি পরমাণু গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। ২০০৯ সালের ৯ মে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়া দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী। ১৯৪২ সালে ১৬ ফেব্রæয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে জন্ম এই বিজ্ঞানীর। ছাত্রজীবনেও তিনি তুখোড় মেধাবী ছিলেন। ডাক নাম সুধা মিয়া। আপনজনরা সুধা মিয়া নামেই তাকে ডাকতেন। বাবা ছিলেন আব্দুল কাদের মিয়া, মা ময়জন্নেসা বিবি। ১৯৫৬ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। সে বছরই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। ছিলেন ফজলুল হক মুসলিম হলে। সে সময়ই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা; ১৯৬১-৬২ শিক্ষা বছরে ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপিও নির্বাচিত হন। তখনই বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৬১ সালে স্নাতক, ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। এমএসসি পাশ করার পর ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে আণবিক শক্তি কমিশনে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পর দেশে ফেরার পর একই বছর ১৭ নভেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে তিনি বিয়ে করেন। এই বিজ্ঞানী নিজেকে বিজ্ঞানের সঙ্গে নিবিড়ভাবেই জড়িয়ে ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরিতে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা ছাড়াও ইতালির ট্রিয়েসটের আন্তর্জাতিক পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে একাধিকবার গবেষণা করেছেন। তিনি গবেষণা করেছেন ভারতের পরমাণু শক্তি কমিশনেও। বঙ্গবন্ধু হত্যা ট্র্যাজেডির পর গোটা পরিবারের হাল ধরেন ওয়াজেদ মিয়া। ৮১ সাল পর্যন্ত নির্বাসিত জীবনে ভারতীয় পরমাণু শক্তি কমিশনের বৃত্তির টাকায় সংসার চালিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ চাকরি করেছেন পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে। ১৯৯৯ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান । দিবসটি পালন উপলক্ষে তার জন্মস্থান পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী ফতেহপুর গ্রামে এবং রংপুর মহানগরীতে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, ড. ওয়াজেদ মিয়ার পরিবার, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠন, ড. ওয়াজেদ স্মৃতি সংসদ (ডিডবিøউএসএস), ড. ওয়াজেদ ফাউন্ডেশান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতিচারণ, ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

https://dainiksurjodoy.com/wp-content/uploads/2023/12/Green-White-Modern-Pastel-Travel-Agency-Discount-Video5-2.gif

নিউইয়র্কে সেইভ দ্য পিপল’র উদ্যোগে হালাল খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

পরমাণু বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়ার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Update Time : ০৬:৪২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মে ২০২৩

সূর্যোদয় প্রতিবেদক : বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি পরমাণু গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে গেছেন। ২০০৯ সালের ৯ মে তিনি ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৭ বছর বয়সে মারা যান। বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের অধিকারী বিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিয়া দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী। ১৯৪২ সালে ১৬ ফেব্রæয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর গ্রামে জন্ম এই বিজ্ঞানীর। ছাত্রজীবনেও তিনি তুখোড় মেধাবী ছিলেন। ডাক নাম সুধা মিয়া। আপনজনরা সুধা মিয়া নামেই তাকে ডাকতেন। বাবা ছিলেন আব্দুল কাদের মিয়া, মা ময়জন্নেসা বিবি। ১৯৫৬ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯৫৮ সালে রাজশাহী কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। সে বছরই ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগে। ছিলেন ফজলুল হক মুসলিম হলে। সে সময়ই ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা; ১৯৬১-৬২ শিক্ষা বছরে ফজলুল হক মুসলিম হলের ভিপিও নির্বাচিত হন। তখনই বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্যে আসেন। ১৯৬১ সালে স্নাতক, ১৯৬২ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন তিনি। এমএসসি পাশ করার পর ১৯৬৩ সালে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে আণবিক শক্তি কমিশনে চাকরিতে যোগ দেন। ১৯৬৭ সালে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পর দেশে ফেরার পর একই বছর ১৭ নভেম্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনাকে তিনি বিয়ে করেন। এই বিজ্ঞানী নিজেকে বিজ্ঞানের সঙ্গে নিবিড়ভাবেই জড়িয়ে ছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে নিউক্লিয়ার ল্যাবরেটরিতে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা ছাড়াও ইতালির ট্রিয়েসটের আন্তর্জাতিক পদার্থ বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রে একাধিকবার গবেষণা করেছেন। তিনি গবেষণা করেছেন ভারতের পরমাণু শক্তি কমিশনেও। বঙ্গবন্ধু হত্যা ট্র্যাজেডির পর গোটা পরিবারের হাল ধরেন ওয়াজেদ মিয়া। ৮১ সাল পর্যন্ত নির্বাসিত জীবনে ভারতীয় পরমাণু শক্তি কমিশনের বৃত্তির টাকায় সংসার চালিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ চাকরি করেছেন পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান পদে। ১৯৯৯ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসরে যান । দিবসটি পালন উপলক্ষে তার জন্মস্থান পীরগঞ্জ উপজেলার লালদিঘী ফতেহপুর গ্রামে এবং রংপুর মহানগরীতে পীরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, ড. ওয়াজেদ মিয়ার পরিবার, উপজেলা আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সংগঠন, ড. ওয়াজেদ স্মৃতি সংসদ (ডিডবিøউএসএস), ড. ওয়াজেদ ফাউন্ডেশান, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্মৃতিচারণ, ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।