Dhaka ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জৌলুস হারাচ্ছে রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিল

মুসলেহ উদ্দি আলরাজি: রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিল লেক। বিনোদনের পাশাপাশি রাজধানীর বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসন, বৃষ্টি-বন্যার পানি ধারণ, রাজধানীর পূর্ব-পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নগরের নান্দনিকতা এবং পরিবেশের উন্নয়নের জন্য হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০১৩ সালে। এরপর বৃষ্টির পানি ধারণের পাশাপাশি এলাকাটি মানুষের অবসরে বেড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই হাতিরঝিলের পানি দূষিত হওয়া শুরু করে। আর দশ বছরেও সে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। এদিকে শুধু দূষণই নয়, এখানে এখন নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে নানা উদ্বেগ। হাতিরঝিলই এখন অরক্ষিত ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ছিনতাই, খুন, রহস্যজনক দুর্ঘটনা এখন নিয়মিতই ঘটছে হাতিরঝিলে। কিছুদিন পরপরই এখান থেকে লাশ উদ্ধারের খবর উঠে আসে গণমাধ্যমে। কিছুদিন পরপরই হাতিরঝিলে মৃত্যুর খবর শোনা যায়। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য চিত্তাকর্ষক যে ওয়াটার ফাউন্টেইনও চালু হয়েছিল, ‘ওয়াটার ড্যান্স’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা এই শো দেখতেও ভিড় জমাতো দর্শনার্থীরা, সেটি প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ থাকলেও চালু করায় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এখন যেকেনো সময় হাতিরঝিলে গেলে দেখা যায়, ঝিলের পানি বিবর্ণ হয়ে কোথাও কালচে, আবার কোথাও সবুজ রং ধারণ করেছে। পানি থেকে আসছে উৎকট গন্ধ। ঝিলের প্রায় সব অংশ থেকেই দুর্গন্ধ ভাসছে বাতাসে। এর মধ্যে নিকেতন, পুলিশ প্লাজা, রামপুরা, কারওয়ান বাজার অংশে দূষণের পরিমাণ বেশি। রাজউক সূত্র জানায়, হাতিরঝিলের পানি নোংরা হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ আছে। ১৩টি পথ দিয়ে মগবাজার, বেগুনবাড়ি, মধুবাগ, নিকেতন, রামপুরা, বাড্ডা, তেজগাঁও, মহাখালী, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার ও কাঁঠালবাগান এলাকার পানি হাতিরঝিলে আসে। এই পানি অধিকাংশ থাকে পয়োবর্জ্য মিশ্রিত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য হাতিরঝিলে পানি নামার নয়টি পথে বর্জ্য শোধনের যন্ত্রও বসানো হয়েছিল। এরইমধ্যে সবকটি যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে। গত বছরের ৪ জানুয়ারি পয়ঃবর্জ্যরে সংযোগ ঝিল, সারফেস ড্রেনে, খালে বা লেকে দেওয়া বন্ধ করতে গুলশান, বারিধারা, নিকেতন এলাকায় অভিযান শুরু করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তখন সংস্থাটি জানিয়েছে, গুলশান, বারিধারা, নিকেতন ও বনানী এলাকার ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টির সুয়ারেজ লাইন লেক কিংবা ড্রেনে সংযোগ দেওয়া। যা মোট বাড়ির ৮৫ শতাংশ। তাই এসব বাড়ির পয়োবর্জ্যরে সংযোগে কলাগাছও ঢুকিয়ে দিয়েছিল সংস্থাটি। এ ছাড়া বাড়ির মালিকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ির নিচে নিজস্ব পদ্ধতিতে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী বলেন, হাতিরঝিলের পানি পরিষ্কার রাখতে নিয়মিতই কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। যেসব স্থানে দুর্গন্ধ বেশি সেখানে কেমিক্যাল ছিটানো হয়। তারপরও কোনো এলাকায় বেশি দুর্গন্ধ হলে সেখানে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে পুরো হাতিরঝিল এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা থাকলেও তা হয়নি এখনো। আবার কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলো নষ্ট। লেকের ছোট সেতুগুলোর বাতি নষ্ট। ঢিলেঢালা থাকে পুলিশের টহল। এসবের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীচক্র।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

https://dainiksurjodoy.com/wp-content/uploads/2023/12/Green-White-Modern-Pastel-Travel-Agency-Discount-Video5-2.gif

ঢাবিতে পুলিশের ধাওয়ায় ছত্রভঙ্গ আন্দোলনকারীরা

জৌলুস হারাচ্ছে রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিল

Update Time : ০৮:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

মুসলেহ উদ্দি আলরাজি: রাজধানীর অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হাতিরঝিল লেক। বিনোদনের পাশাপাশি রাজধানীর বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসন, বৃষ্টি-বন্যার পানি ধারণ, রাজধানীর পূর্ব-পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি নগরের নান্দনিকতা এবং পরিবেশের উন্নয়নের জন্য হাতিরঝিল প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ২০১৩ সালে। এরপর বৃষ্টির পানি ধারণের পাশাপাশি এলাকাটি মানুষের অবসরে বেড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু বছর না ঘুরতেই হাতিরঝিলের পানি দূষিত হওয়া শুরু করে। আর দশ বছরেও সে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। এদিকে শুধু দূষণই নয়, এখানে এখন নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে নানা উদ্বেগ। হাতিরঝিলই এখন অরক্ষিত ও অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। ছিনতাই, খুন, রহস্যজনক দুর্ঘটনা এখন নিয়মিতই ঘটছে হাতিরঝিলে। কিছুদিন পরপরই এখান থেকে লাশ উদ্ধারের খবর উঠে আসে গণমাধ্যমে। কিছুদিন পরপরই হাতিরঝিলে মৃত্যুর খবর শোনা যায়। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য চিত্তাকর্ষক যে ওয়াটার ফাউন্টেইনও চালু হয়েছিল, ‘ওয়াটার ড্যান্স’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠা এই শো দেখতেও ভিড় জমাতো দর্শনার্থীরা, সেটি প্রায় তিন বছর ধরে বন্ধ থাকলেও চালু করায় কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এখন যেকেনো সময় হাতিরঝিলে গেলে দেখা যায়, ঝিলের পানি বিবর্ণ হয়ে কোথাও কালচে, আবার কোথাও সবুজ রং ধারণ করেছে। পানি থেকে আসছে উৎকট গন্ধ। ঝিলের প্রায় সব অংশ থেকেই দুর্গন্ধ ভাসছে বাতাসে। এর মধ্যে নিকেতন, পুলিশ প্লাজা, রামপুরা, কারওয়ান বাজার অংশে দূষণের পরিমাণ বেশি। রাজউক সূত্র জানায়, হাতিরঝিলের পানি নোংরা হওয়ার পেছনে বেশকিছু কারণ আছে। ১৩টি পথ দিয়ে মগবাজার, বেগুনবাড়ি, মধুবাগ, নিকেতন, রামপুরা, বাড্ডা, তেজগাঁও, মহাখালী, পান্থপথ, কারওয়ান বাজার ও কাঁঠালবাগান এলাকার পানি হাতিরঝিলে আসে। এই পানি অধিকাংশ থাকে পয়োবর্জ্য মিশ্রিত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য হাতিরঝিলে পানি নামার নয়টি পথে বর্জ্য শোধনের যন্ত্রও বসানো হয়েছিল। এরইমধ্যে সবকটি যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে। গত বছরের ৪ জানুয়ারি পয়ঃবর্জ্যরে সংযোগ ঝিল, সারফেস ড্রেনে, খালে বা লেকে দেওয়া বন্ধ করতে গুলশান, বারিধারা, নিকেতন এলাকায় অভিযান শুরু করেছিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। তখন সংস্থাটি জানিয়েছে, গুলশান, বারিধারা, নিকেতন ও বনানী এলাকার ৩ হাজার ৮৩০টি বাড়ির মধ্যে ২ হাজার ২৬৫টির সুয়ারেজ লাইন লেক কিংবা ড্রেনে সংযোগ দেওয়া। যা মোট বাড়ির ৮৫ শতাংশ। তাই এসব বাড়ির পয়োবর্জ্যরে সংযোগে কলাগাছও ঢুকিয়ে দিয়েছিল সংস্থাটি। এ ছাড়া বাড়ির মালিকদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বাড়ির নিচে নিজস্ব পদ্ধতিতে পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

রাজউকের সদস্য (উন্নয়ন) মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী বলেন, হাতিরঝিলের পানি পরিষ্কার রাখতে নিয়মিতই কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। যেসব স্থানে দুর্গন্ধ বেশি সেখানে কেমিক্যাল ছিটানো হয়। তারপরও কোনো এলাকায় বেশি দুর্গন্ধ হলে সেখানে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে পুরো হাতিরঝিল এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা থাকলেও তা হয়নি এখনো। আবার কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলো নষ্ট। লেকের ছোট সেতুগুলোর বাতি নষ্ট। ঢিলেঢালা থাকে পুলিশের টহল। এসবের সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীচক্র।