ডেস্ক রিপোর্ট | সূর্যোদয় : দাম বৃদ্ধির অপেক্ষাকে কেন্দ্র করে বিক্রি বন্ধ করেছে আমদানিকারকরা ফলে এলপিজির কৃত্রিম সংকট চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে যেসব ব্যবস্থার কথা বলা হচ্ছে তাতেও পাত্তা দিচ্ছেন না এলপিজি সিন্ডিকেট। এমনকি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ঘোষণা দিলেও বাজারে তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। আমদানিকারকরা ৪ অক্টোবর রোববারের অপেক্ষায় রয়েছে, ওইদিন আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন দর ঘোষণা করবে বিইআরসি। ততক্ষণ পর্যন্ত কৃত্রিম সংকট সৃষ্ঠি করে রেখেছে আমদানিকারকরা। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী (টনপ্রতি ৬৪ ডলার) দেখে ৫টি কোম্পানি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বিক্রি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। নতুন দামে বিক্রি করার জন্য হাজার হাজার টন এলপিজি ধরে রেখেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আগস্টে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন, আর সেপ্টেম্বর মাসে এসেছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন। সে কারণে বাজারে ঘাটতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গোয়েন্দা বাহিনীর রিপোর্টে কারসাজির জন্য ইস্টকোস্ট গ্রুপ, বিএম এলপিজি, পেট্রোম্যাক্স, যমুনা স্পেসটেক জেভি লিমিটেডের নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা তথ্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে পরিবেশকদের তথ্যেও। কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে ভোক্তাদের যখন পকেট কাটা হচ্ছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ দফায় দফায় বৈঠক করছেন অভিযুক্ত আমদানিকারকদের সঙ্গে। তারা এসে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। শনিবার ৩ অক্টোবর সরকারী ছুটির দিনেও নিজ কার্যালয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) এর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রীও। সেই বৈঠকে আমদানিকারকরা সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করেন। অন্যদিকে বিইআরসিতেও একাধিক দফায় বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে বেশি দামে বিক্রির বিষয়টি লিখিতভাবে জানালেও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে বিইআরসি। আর সেই সুযোগে কয়েকটি কোম্পানি জনগণকে জিম্মি করে কয়েক হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। ৪ অক্টোবর আদেশ এলেই কমদামে আনা এলপিজি বেশিদামে বিক্রির জন্য প্রস্তুতি চলছে। আওয়ামী লীগের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকারও উদার হস্তে তাদের সব সুবিধা নিশ্চিত করে যাচ্ছে। নানা সুবিধা দিয়েও ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে আনতে বার বার ব্যর্থ হয়ে আসছে সরকারগুলো। অতীতে যখনই দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে তখনই নানান কারসাজি করেছে। এবারও অক্টোবর মাসে দাম বাড়ার আভাস পেয়ে সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কয়েকদিন ধরেই এলপিজির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।
তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারও ব্যবসায়ীদের সুরেই কথা বলতে থাকেন। বিইআরসি অনেকটা বাধ্য হয়েই (৫ মাসের মাথায় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১) ১২ কেজির সিলিন্ডারে কমিশন ৩৫৯.৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৪১ টাকা করে। আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় হলেও এলপিজি সিন্ডিকেটের দাপট কোন অংশে কমেনি। ক্ষেত্রবিশেষে তারা এখন আরও বেশি শক্তিশালী। ৫টি কোম্পানি তাদের আমদানির ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে নিয়ে গেছেন। এত কিছুর পরও নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না এলপি গ্যাসের দাম। প্রকাশ্যে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও ভোক্তা অধিদপ্তর হাতগুটিয়ে বসে রয়েছে।
১০:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
এলপিজিতে কারসাজির অভিযোগ, মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট
সর্বাধিক পঠিত











