০৯:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য চুরির নেপথ্যে ফটিকছড়ি দাঁতমারার যুবলীগনেতা হাসেম

  • আপডেট: ০৯:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • 5

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ব্যুরো :<>: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল সিসিটি ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটির ইয়ার্ডের ভিতরে এবং তার আশপাশে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় ধরনের পণ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চুরির পেছনে সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ আইন প্রয়োকারী সংস্থার উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা। চক্রটির মূল হোতা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তিরহাটের রত্নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্দ ইউনুস মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা মোহাম্দ হাসেম। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছেন পুরো চক্রের প্রধান মোহাম্দ হাসেম ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১০ মাসে সিসিটি ইয়ার্ডকেন্দ্রিক অন্তত দুটি বড় চুরির ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য খোয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্দর থেকে নির্ধারিত গুদামে নেওয়ার পথে কিংবা বন্দরসংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারের লক বা সিল ভেঙে মূল্যবান পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে এই চক্রে পরিবহনসংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং সি এন্ড এফ’ (C&F) এর কয়েকজনের কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
গত জুন মাসে কাপড়ের রোল চুরির একটি ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে এবং ৫১টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব কাটিয়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দী এম এ লতিফের চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা যুবলীগের নব গঠিত কমিঠির ‍যুগ্ম আহবায়ক হাসেম সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ডের পণ্য চুরির জন্য সংঘবদ্ধ একটি দল গঠন করে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ঠ আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ২ মাস আত্মগোপনে থাকেন চক্রটি। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে আতাত করে পুণরায় ফিরে আসেন বন্দরকেন্দ্রিক ৫ জনের সমন্বয়ে গঠিত চোরচক্রের প্রধান হাসেমের সিন্ডিকেট। এদিকে গত ৬ জুন কাপড়ের রোল ভর্তি কাভার্ডভ্যান থেকে ৫১টি রোল চুরির দায়ে গত ১৫ জুন রবিবার রাতে নগরীর হালিশহর ও বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য আকবর আলী, শহিদুল ইসলাম জীবন, আব্দুল করিম হৃদয় ও হাছান নামের চারজনকে গ্রেফতার সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাইকৃত ৫১টি কাপড়ের রোলও উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অভিযানে গ্রেফতারকৃত চারজনই হাসেমের সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য বলে জানাগেছে। এব্যাপারে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মোহাম্দ হাসেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। উল্লেখ্যচট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। তাই এখানে সংঘটিত প্রতিটি বড় চুরির ঘটনা শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই নয়, দেশের সরবরাহব্যবস্থা, বাণিজ্যিক আস্থা এবং বন্দর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য চুরির নেপথ্যে ফটিকছড়ি দাঁতমারার যুবলীগনেতা হাসেম

চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য চুরির নেপথ্যে ফটিকছড়ি দাঁতমারার যুবলীগনেতা হাসেম

আপডেট: ০৯:৩৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম ব্যুরো :<>: দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল সিসিটি ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল এনসিটির ইয়ার্ডের ভিতরে এবং তার আশপাশে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বড় ধরনের পণ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই চুরির পেছনে সংঘবদ্ধ একটি চক্র জড়িত বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ঠ আইন প্রয়োকারী সংস্থার উর্দ্ধতন এক কর্মকর্তা। চক্রটির মূল হোতা চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নের শান্তিরহাটের রত্নপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্দ ইউনুস মিয়ার ছেলে যুবলীগ নেতা মোহাম্দ হাসেম। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ধরাছোয়ার বাহিরে রয়েছেন পুরো চক্রের প্রধান মোহাম্দ হাসেম ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ১০ মাসে সিসিটি ইয়ার্ডকেন্দ্রিক অন্তত দুটি বড় চুরির ঘটনায় কয়েক কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য খোয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, বন্দর থেকে নির্ধারিত গুদামে নেওয়ার পথে কিংবা বন্দরসংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা কাভার্ড ভ্যান ও কনটেইনারের লক বা সিল ভেঙে মূল্যবান পণ্য সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে এসেছে এই চক্রে পরিবহনসংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এবং সি এন্ড এফ’ (C&F) এর কয়েকজনের কর্মচারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে।
গত জুন মাসে কাপড়ের রোল চুরির একটি ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে এবং ৫১টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে সংঘবদ্ধ চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব কাটিয়ে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য কারাবন্দী এম এ লতিফের চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ন্ত্রণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা যুবলীগের নব গঠিত কমিঠির ‍যুগ্ম আহবায়ক হাসেম সিসিটি ও এনসিটি ইয়ার্ডের পণ্য চুরির জন্য সংঘবদ্ধ একটি দল গঠন করে। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ঠ আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর ২ মাস আত্মগোপনে থাকেন চক্রটি। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সাথে আতাত করে পুণরায় ফিরে আসেন বন্দরকেন্দ্রিক ৫ জনের সমন্বয়ে গঠিত চোরচক্রের প্রধান হাসেমের সিন্ডিকেট। এদিকে গত ৬ জুন কাপড়ের রোল ভর্তি কাভার্ডভ্যান থেকে ৫১টি রোল চুরির দায়ে গত ১৫ জুন রবিবার রাতে নগরীর হালিশহর ও বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য আকবর আলী, শহিদুল ইসলাম জীবন, আব্দুল করিম হৃদয় ও হাছান নামের চারজনকে গ্রেফতার সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাইকৃত ৫১টি কাপড়ের রোলও উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। অভিযানে গ্রেফতারকৃত চারজনই হাসেমের সিন্ডিকেটের সক্রিয় সদস্য বলে জানাগেছে। এব্যাপারে অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মোহাম্দ হাসেমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। উল্লেখ্যচট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র। তাই এখানে সংঘটিত প্রতিটি বড় চুরির ঘটনা শুধু ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতিই নয়, দেশের সরবরাহব্যবস্থা, বাণিজ্যিক আস্থা এবং বন্দর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করছে। এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।