Dhaka ১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে সিলেট নগরীর বেশির ভাগ এলাকা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪
  • 17

সিলেট প্রতিনিধি: রোববার মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। ভারী বর্ষণে ঈদের দিনে পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেট নগরীর বেশির ভাগ এলাকা। অনেকের বাসাবাড়িতে হাঁটু পানি, কারও বাড়িতে আবার কোমরসমান পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তাঘাটও পানিতে ডুবে আছে। এ অবস্থায় সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ঈদগাহ ময়দানে যেতে পারেননি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। অনেকে পানি মাড়িয়ে পাড়া-মহল্লার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে আজ ১৭ জুন সোমবার। তবে এদিন ঈদ আনন্দ ম্লান হয়েছে সিলেট নগরবাসীর। এদিকে, পানিতে বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। অনেকে উঁচু এলাকায় গিয়ে পশু জবাই করে বাসাবাড়িতে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ পশু জবাইয়ের জন্য পানি নামার অপেক্ষা করছেন। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ভারী বর্ষণে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, দরগামহল্লা, পায়রা, সুবিদবাজার, বনকলাপাড়া, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কাজলশাহ, মেডিকেল রোড, বাগবাড়ি, কালীবাড়ি, হাওলাদারপাড়া, সোবহানীঘাট, উপশহর, যতরপুর, তেরোরতন, সোনারপাড়া, কেওয়াপাড়া, সাগরদিঘিরপার, পাঠানটুলা, মিয়া ফাজিলচিশত, জালালাবাদ, হাউজিং এস্টেট, শাহী ঈদগাহ, ঘাসিটুলা, হাওয়াপাড়া, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, মাছিমপুর, জামতলা ও তালতলা এলাকায় পানি থই থই করছে। রাস্তাঘাট কোথায় হাঁটু পর্যন্ত, কোথাও কোমর পর্যন্ত ডুবে আছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে রোববার সিলেটে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। এদিকে, বৃষ্টিপাত উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

Tag :
সর্বাধিক পঠিত

https://dainiksurjodoy.com/wp-content/uploads/2023/12/Green-White-Modern-Pastel-Travel-Agency-Discount-Video5-2.gif

চীন বাংলাদেশকে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ প্রদানে সম্মত হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে সিলেট নগরীর বেশির ভাগ এলাকা

Update Time : ১২:৪৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪

সিলেট প্রতিনিধি: রোববার মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে সিলেটে। ভারী বর্ষণে ঈদের দিনে পানিতে তলিয়ে গেছে সিলেট নগরীর বেশির ভাগ এলাকা। অনেকের বাসাবাড়িতে হাঁটু পানি, কারও বাড়িতে আবার কোমরসমান পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তাঘাটও পানিতে ডুবে আছে। এ অবস্থায় সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য ঈদগাহ ময়দানে যেতে পারেননি ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। অনেকে পানি মাড়িয়ে পাড়া-মহল্লার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে আজ ১৭ জুন সোমবার। তবে এদিন ঈদ আনন্দ ম্লান হয়েছে সিলেট নগরবাসীর। এদিকে, পানিতে বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশু জবাই করতে গিয়েও বিপাকে পড়েছেন মানুষজন। অনেকে উঁচু এলাকায় গিয়ে পশু জবাই করে বাসাবাড়িতে নিয়ে আসছেন। কেউ কেউ পশু জবাইয়ের জন্য পানি নামার অপেক্ষা করছেন। রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত ভারী বর্ষণে সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, দরগামহল্লা, পায়রা, সুবিদবাজার, বনকলাপাড়া, চৌহাট্টা, জিন্দাবাজার, কাজলশাহ, মেডিকেল রোড, বাগবাড়ি, কালীবাড়ি, হাওলাদারপাড়া, সোবহানীঘাট, উপশহর, যতরপুর, তেরোরতন, সোনারপাড়া, কেওয়াপাড়া, সাগরদিঘিরপার, পাঠানটুলা, মিয়া ফাজিলচিশত, জালালাবাদ, হাউজিং এস্টেট, শাহী ঈদগাহ, ঘাসিটুলা, হাওয়াপাড়া, মীরাবাজার, শিবগঞ্জ, মাছিমপুর, জামতলা ও তালতলা এলাকায় পানি থই থই করছে। রাস্তাঘাট কোথায় হাঁটু পর্যন্ত, কোথাও কোমর পর্যন্ত ডুবে আছে। আবহাওয়া অফিস বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৭৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে রোববার সিলেটে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছিল আবহাওয়া অফিস। এদিকে, বৃষ্টিপাত উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পাউবো জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি তিনটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৭২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারি নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়াও সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার খুব কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।