০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গাছচোর’ থেকে চেয়ারম্যান, দুর্নীতির দায়ে বিতর্কিত দাঁতমারার জানে আলম

  • আপডেট: ০২:১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • 8

চট্টগ্রাম ব্যুরো :<>: দাঁতমারার জানে আলম চেয়ারম্যান হয়েও রাতের আধাঁরে চুরি করতেন হিঙ্গলী বন বিটের গাছ। জানাগেছে, মাত্র ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। তার পেশা ছিলো হিঙ্গলী বন বিটের গাছ চুরি করে বিক্রয় করা। প্রথমবার চেয়ারম্যান হওয়ার আগে এলাকায় গাছচোর কানা আলম নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করে দলীয় প্রভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর গাছচোর কানা আলম নামটি ধীরে ধীরে মূছে গিয়ে জানে আলম চেয়ারম্যান নামেই পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি। কিন্তু গাছচোর কানা আলম নামটি বদলে গেলেও চেয়ারম্যান পদে থেকেও তার পেশা পাল্টায়নি। জানাগেছে, গত ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই আনুমানিক ৪ ঘটিকার সময় দাঁতমারা ইউনিয়নের হিঙ্গলী বন বিটের স্বল্প মেয়াদী বাগানে বন বিভাগের বন প্রহরী সাদেক টহল প্রদানের সময় গাছ কাটার শব্দ শুনতে পেয়ে দেখতে পান কাঞ্চনাবাদ সাদিনগরের আহমেদুল হকের ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান মো. জানে আলম গাছ কাটছে। এসময় অন্যান্য বন প্রহরীদের সাথে নিয়ে আসামীদের ধরার চেষ্ঠা করলে তারা গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাসী করে কাটা অবস্থায় ১৭০টি আকাশমনী গাছসহ ১টি কোদাল ও ১দা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ১৯২৭ সনের বন আইনের সংশোধিত ২৬ (১ক) ধারায় জানে আলম চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন হাসনাবাদ বিট রেঞ্জের সাবেক বিট কর্মকর্তা মো: ইসরাইল হোসেন। এর মামলার নাম্বার ৮৫/২০১৮। কিন্তু দলীয় প্রভাব বিস্তার করে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সুকৌশলে চেয়ারম্যান জানে আলম আদালতের মাধ্যমে মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান। কিন্তু জানে আলমকে গাছ চুরির মামলা থেকে খালাস দেয়ার পর মামলাটির বাদী মো: ইসরাইল হোসেন রায়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত ২০২২ সালের ৭ মার্চ আপিল করেন। যার ফৌজদারি আপিল নং-১৯৮/২০২২ ইং। মামলাটি বন বিভাগের কৌশলী রবি শংকর চৌধুরী পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, দাঁতমারার ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলমের বিরুদ্ধে শ্রমিকের টাকা আত্মসাত ও গরীবের চাল চুরিসহ দুনীর্তির একাধিক মামলা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দয়েরকৃত দুনীর্তির মামলায় তিনি কারাবন্দীও ছিলেন।

চট্টগ্রামের রাউজানে মাকসুদ হত্যায় গ্রেপ্তার আরও ২ জন

‘গাছচোর’ থেকে চেয়ারম্যান, দুর্নীতির দায়ে বিতর্কিত দাঁতমারার জানে আলম

আপডেট: ০২:১০:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

চট্টগ্রাম ব্যুরো :<>: দাঁতমারার জানে আলম চেয়ারম্যান হয়েও রাতের আধাঁরে চুরি করতেন হিঙ্গলী বন বিটের গাছ। জানাগেছে, মাত্র ৩য় শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন তিনি। তার পেশা ছিলো হিঙ্গলী বন বিটের গাছ চুরি করে বিক্রয় করা। প্রথমবার চেয়ারম্যান হওয়ার আগে এলাকায় গাছচোর কানা আলম নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। এক পর্যায়ে প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য রফিকুল আনোয়ারের হাত ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করে দলীয় প্রভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর গাছচোর কানা আলম নামটি ধীরে ধীরে মূছে গিয়ে জানে আলম চেয়ারম্যান নামেই পরিচিত হয়ে উঠেন তিনি। কিন্তু গাছচোর কানা আলম নামটি বদলে গেলেও চেয়ারম্যান পদে থেকেও তার পেশা পাল্টায়নি। জানাগেছে, গত ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই আনুমানিক ৪ ঘটিকার সময় দাঁতমারা ইউনিয়নের হিঙ্গলী বন বিটের স্বল্প মেয়াদী বাগানে বন বিভাগের বন প্রহরী সাদেক টহল প্রদানের সময় গাছ কাটার শব্দ শুনতে পেয়ে দেখতে পান কাঞ্চনাবাদ সাদিনগরের আহমেদুল হকের ছেলে ইউপি চেয়ারম্যান মো. জানে আলম গাছ কাটছে। এসময় অন্যান্য বন প্রহরীদের সাথে নিয়ে আসামীদের ধরার চেষ্ঠা করলে তারা গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল তল্লাসী করে কাটা অবস্থায় ১৭০টি আকাশমনী গাছসহ ১টি কোদাল ও ১দা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ১৯২৭ সনের বন আইনের সংশোধিত ২৬ (১ক) ধারায় জানে আলম চেয়ারম্যানসহ ৫ জনকে আসামী করে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন হাসনাবাদ বিট রেঞ্জের সাবেক বিট কর্মকর্তা মো: ইসরাইল হোসেন। এর মামলার নাম্বার ৮৫/২০১৮। কিন্তু দলীয় প্রভাব বিস্তার করে ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সুকৌশলে চেয়ারম্যান জানে আলম আদালতের মাধ্যমে মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান। কিন্তু জানে আলমকে গাছ চুরির মামলা থেকে খালাস দেয়ার পর মামলাটির বাদী মো: ইসরাইল হোসেন রায়ের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে গত ২০২২ সালের ৭ মার্চ আপিল করেন। যার ফৌজদারি আপিল নং-১৯৮/২০২২ ইং। মামলাটি বন বিভাগের কৌশলী রবি শংকর চৌধুরী পরিচালনা করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, দাঁতমারার ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলমের বিরুদ্ধে শ্রমিকের টাকা আত্মসাত ও গরীবের চাল চুরিসহ দুনীর্তির একাধিক মামলা রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের দয়েরকৃত দুনীর্তির মামলায় তিনি কারাবন্দীও ছিলেন।