চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় অবৈধ গাছ, বাঁশ, বালু ও মাটি পরিবহনের সঙ্গে জড়িতদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিষয়টি এখন প্রায় “অলিখিত নিয়মে” পরিণত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কসহ পাইন্দং-কাঞ্চননগর, ফটিকছড়ি-হেয়াকো, পেলাগাজী-বারৈয়ারঢালা এবং লেলাং-রাঙামাটিয়া সড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে নিয়মিত চাঁদা দিতে হচ্ছে। এসব সড়ক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। পরিবহন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ফটিকছড়ি থানার সীমানা অতিক্রম করার সময় প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রায় ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। শুধু পরিবহন নয়, মাটি কাটা, জায়গা ভরাট এবং বালু উত্তোলনের প্রতিটি স্পট থেকেও প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। মাসিক আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাটি পরিবহনের কাজ শুরুর আগেই ওসির নিয়োগকৃত সোর্সদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে টোকেন নিতে হয়। গাড়িপ্রতি ৫০০ টাকা দিয়ে এই টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। টোকেন না থাকলে পুলিশ গাড়ি আটক করে এবং পরে জরিমানা দিয়ে ছাড়াতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে, সেগুন গাছ বহনকারী প্রতিটি গাড়ির জন্য প্রায় ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য গাছের ক্ষেত্রে ৭০০ টাকা করে দিতে হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, মামলা ছাড়াই থানায় লোক ধরে এনে অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ সেলিমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
০৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:



















