সূর্যোদয় ডেস্ক : ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলাকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় দলের যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতার করেছে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ। রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল শনিবার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. এনামুল কবিরের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এনসিপি নেতা তারেক রেজা রবিবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তারেককে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় ঘটনাস্থলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে গতকাল শনিবার জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি মো. এনামুল কবির বাদী হয়ে এনসিপির ২২ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজাকে প্রধান আসামি করা হয়। ওই মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছিল। সেই মামলায় তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।’ ছাত্রদলের করা মামলার অন্য আসামিরা হলেন- মেহেদী হাসান আশিক, সিয়াম উদ্দিন তুর্য, তানাঈম, আসিফ, অয়ন রহমান খান, তাইন, জয়নাল, আলমগীর, শাহরিয়ার অভীক, লাবাবুল বাশার, শিহাব শাহ, নয়ন, সুলতান, হৃদয়, রুবায়েত হাসান, শেখ সামি, রিফাত, হাকিম, কাইসার ও ইমরান। মামলার এজাহার সুত্রে জানাগেছে, গত ২২ মে শুক্রবার দুপুরে বাদী এনামুল কবির ঝিনাইদহ পৌরসভার পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে বেলা ১টা ৫০ মিনিটে মসজিদ থেকে বেরিয়ে দেখতে পান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী জেলা শাখার নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছেন। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর সমালোচনা করছিলেন, যাতে ১ নম্বর আসামি তারেক রেজা উসকানি দেন। এ সময় বাদী ও সাধারণ মুসল্লিরা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে ১ নম্বর আসামির হুকুমে এনসিপির নেতাকর্মীরা ছাত্রদল নেতাদের ওপর চড়াও হন। আসামিরা বেআইনিভাবে দলবদ্ধ হয়ে বাদীকে ঘিরে ধরে মারপিট শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামি তানাঈম বাদীকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করলে তার কপাল ফেটে গুরুতর জখম হয়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহহেদ, ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সভাপতি হৃদয় হোসেন ও জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক সহসভাপতি নয়ন হাওলাদারসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পিস্তলের বাঁট, ধারালো দা ও ইট দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করা হয়।
১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:



















